দক্ষিণ কলকাতার জমি দখল ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অমিতের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল, জাল দলিল তৈরি এবং প্রোমোটিং ব্যবসার আড়ালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।

দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় প্রোমোটিং ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা চালাতেন অমিত গঙ্গোপাধ্যায়। যাদবপুর, বেহালা, টালিগঞ্জ এবং গড়িয়া-সহ একাধিক এলাকায় তাঁর সংস্থার বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প চলছিল বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবসার সূত্রেই একাধিক জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয়দের জমি দখল করার জন্য জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে ইডি।
অমিতের বিরুদ্ধে এর আগেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলার তদন্তভার ইডির হাতে যাওয়ার পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের হাতে পাওয়া তথ্য এবং নথির ভিত্তিতেই এ বার জমি দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
অমিতের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, তিনি দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে অমিতের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের সঙ্গে অন্য কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির সরাসরি যোগ রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এর মধ্যেই বুধবার সকাল থেকে কলকাতায় আরও বড় অভিযানে নামে ইডি। এএমপি চিটফান্ড প্রতারণা ও টাকা নয়ছয়ের মামলায় শহরের অন্তত ছয়টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর, রবীন্দ্র সরোবর-সহ বিভিন্ন এলাকায় তদন্তকারীরা পৌঁছে যান। সকালেই নারকেলডাঙার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই বুধবার সকাল থেকে কলকাতায় আরও বড় অভিযানে নামে ইডি। এএমপি চিটফান্ড প্রতারণা ও টাকা নয়ছয়ের মামলায় শহরের অন্তত ছয়টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর, রবীন্দ্র সরোবর-সহ বিভিন্ন এলাকায় তদন্তকারীরা পৌঁছে যান। সকালেই নারকেলডাঙার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি।
{{/usCountry}}ইডি সূত্রের দাবি, এএমপি চিটফান্ডের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা অর্থের একটি অংশ নির্মাণ ব্যবসার মাধ্যমে ঘোরানোর চেষ্টা হয়েছিল। নারকেলডাঙার ওই ব্যবসায়ী সেই আর্থিক লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম বা ‘লিঙ্কম্যান’ হিসেবে কাজ করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিটফান্ডের টাকা বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তার উৎস আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।
এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ইসিআর তৈরির পরই বুধবারের অভিযান শুরু হয়। নির্মাণ সংস্থার ডিরেক্টর, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইডির লক্ষ্য, চিটফান্ডের টাকা কোন পথে ঘুরেছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে, তার হিসাব খুঁজে বের করা।
অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এএমপি চিটফান্ড মামলায় কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির অভিযান হওয়ায় তদন্ত নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। জমি, প্রোমোটিং এবং আর্থিক লেনদেন—এই তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও এখন নজরে। তবে দুই মামলার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনও তথ্য এখনও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
এখন ইডির হাতে পাওয়া নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যের উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। তল্লাশি শেষে নতুন কোনও নাম বা আর্থিক যোগসূত্র সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।