দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি পেতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। দেশের আটটি হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টও। বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি তথা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

এতদিন কলকাতা হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। এর আগে বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতা হাইকোর্টে স্থায়ী প্রধান বিচারপতির পদটি নিয়ে অপেক্ষা চলছিল। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।
বিচারপতি ঘুগের নিয়োগ অবশ্য একেবারে আকস্মিক নয়। ৬ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশ করেছিল। প্রায় এক মাসের মধ্যেই সেই সুপারিশে কেন্দ্রীয় অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের পর নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেন্দ্র।
আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের। ১৯৯০ সালে ঔরঙ্গাবাদের এমপি ল কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। একই বছর আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বম্বে হাইকোর্টের পাশাপাশি শিল্প ও শ্রম আদালতেও তিনি দীর্ঘদিন সওয়াল করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের হয়ে বহু মামলায় লড়াই করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শিল্প সংস্থা এবং বহুজাতিক সংস্থার হয়েও মামলা পরিচালনা করেন। ২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হন তিনি।
চলতি বছরের জুনে বম্বে হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর বিচারপতি ঘুগে ওই হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন। এবার তাঁকেই কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হল।
{{/usCountry}}চলতি বছরের জুনে বম্বে হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর বিচারপতি ঘুগে ওই হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন। এবার তাঁকেই কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হল।
{{/usCountry}}কলকাতা হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতির আগমন এমন সময়ে হচ্ছে, যখন মামলার চাপ এবং বিচারপতির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক নিয়োগে হাইকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও অনুমোদিত ৭২টি পদের তুলনায় এখনও উল্লেখযোগ্য শূন্যপদ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন প্রধান বিচারপতির সামনে প্রশাসনিক দক্ষতার সঙ্গে মামলাজট কমানোর বড় চ্যালেঞ্জও থাকবে।
শুধু কলকাতা নয়, একইসঙ্গে আরও সাতটি হাইকোর্টেও নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ভি কামেশ্বর রাওকে পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে। ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার আগরওয়াল হয়েছেন রাজস্থান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি দায়িত্ব নিচ্ছেন বম্বে হাইকোর্টে।
এছাড়াও পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্রকে ওই হাইকোর্টেরই প্রধান বিচারপতি, ওড়িশা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাম মহাপাত্রকে ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি অল্পেশ যশবন্ত কোগজেকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র সিং ভাটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে।
এই নিয়োগের ফলে দেশের ২৫টি হাইকোর্টেই এখন নিয়মিত প্রধান বিচারপতি কার্যত নিশ্চিত হল। কলকাতা হাইকোর্টের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বের পরিবর্তে এবার স্থায়ী নেতৃত্ব এল। ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রশাসন, মামলাজট কমানো এবং হাইকোর্টের সামগ্রিক কার্যপ্রক্রিয়ায় বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।