Calcutta High Court: স্বামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শুধু এই পরিচয়ের কারণে স্ত্রীকে বিভিন্ন তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে এনে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা যায় কিনা, সেই প্রশ্নে কলকাতা হাইকোর্টে ফের উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rujira Banerjee) আবেদন। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশের মেয়াদ বাড়াল আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, '২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর এই মিডিয়া ট্রায়ালের বিরুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছিল আদালত। রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কোনও রাজনৈতিক সত্তা নন। অথচ তাঁর স্বামী রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ার সুবাদে বারবার বিভিন্ন ঘটনায় তাঁকে জড়িয়ে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হচ্ছে। আমাদের প্রাথমিক ও প্রধান দাবিই হল এই মিডিয়া ট্রায়াল অবিলম্বে বন্ধ করা।' অন্যদিকে, এই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তরফে আরও সময় চাওয়া হয়। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে এবং আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশের মেয়াদও বাড়িয়ে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কার্যকর থাকবে। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ নভেম্বর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলাকালীন সংবাদমাধ্যমে কোনও ব্যক্তিকে এমনভাবে তুলে ধরার বিষয়ে সতর্ক করেছিল আদালত, যাতে বিচার শেষ হওয়ার আগেই জনমানসে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধীসুলভ ধারণা তৈরি না হয়। একই সঙ্গে তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষা, একজন নাগরিকের নিজস্ব মর্যাদা এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘নির্দোষ হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিকার’-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল বক্তব্য, তাঁর স্বামী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিভিন্ন তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে থাকার কারণে তাঁকেও বারবার সংবাদমাধ্যমে টেনে আনা হচ্ছে। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বন্ধের আবেদন জানিয়েই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।