নয়া প্রধান বিচারপতি পেল দেশের প্রাচীনতম উচ্চ আদালত হিসেবে পরিচিত কলকাতা হাইকোর্ট। এবার কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পেলেন বিচারপতি সুজয় পাল। এতদিন তিনি এই পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নামেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ে।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারব্যবস্থার এই পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানমের অবসরের পর পদটি শূন্য হয়। সেই সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক। তবে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম পরবর্তীতে বিচারপতি সৌমেন সেনকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে বদলির সুপারিশ করলে, সেই দায়িত্বভার অর্পিত হয় বিচারপতি সুজয় পালের উপর। ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে চূড়ান্তভাবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নামই মনোনীত করা হয়।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের জন্ম প্রবাসী বাঙালি পরিবারে। ছোটবেলা কেটেছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানেই এল এস ঝা মডেল স্কুলে পড়াশোনা তাঁর। পরে জব্বলপুরের রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে এলএলবি ডিগ্রি পান। আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ২০১১ সাল থেকে জব্বলপুরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারক পদে দায়িত্ব সামলেছেন বিচারপতি সুজয় পাল। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করায় তাঁকে বদলি করা হয় তেলাঙ্গানা হাইকোর্টে। ২০২৫-এর ২৬ মে বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করে। অবশেষে সেই সূত্র ধরেই কলকাতা হাইকোর্টের শীর্ষ পদে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পেলেন বিচারপতি সুজয় পাল। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব থেকে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি সুজয় পালের এই উত্তরণ কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় কাজে আরও গতি আনবে বলে মনে করছে আইনি মহল। বিশেষ করে বকেয়া মামলার নিষ্পত্তি এবং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে। মধ্যপ্রদেশ, তেলাঙ্গানা থেকে কলকাতা বিচারপতি সুজয় পালের এই দীর্ঘ সফরের নতুন অধ্যায় এখন শুরু হল তিলোত্তমার ঐতিহাসিক এজলাসে।