...
...
Next Story

ভোটার-আধার-প্যানেই নাগরিকত্ব প্রমাণ নয়, জানাল HC, 'বিদেশি সন্দেহে দায় নিজেরই'

উচ্চ আদালত জানিয়েছে, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি কিংবা জমির দলিল এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করেছে।

Published on: Jul 30, 2026, 08:53:55 IST
Advertisement

কলকাতা হাই কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন দিশা দেখাল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কাউকে বিদেশি বলে সন্দেহ করা হলে নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই। রাষ্ট্র বা প্রশাসনের ওপর সেই দায় বর্তায় না। একই সঙ্গে আদালত আরও জানিয়েছে, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি কিংবা জমির দলিল এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করেছে।

উচ্চ আদালত জানিয়েছে, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি কিংবা জমির দলিল এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
উচ্চ আদালত জানিয়েছে, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি কিংবা জমির দলিল এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে ঘিরে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করে আদালত। মামলাকারী সুমন মোল্লার অভিযোগ, গত ১৮ জুন তাঁর ভাইপোকে বেআইনিভাবে আটক করে পুলিশ ডিটেনশন শিবিরে নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, ভাইপো ভারতীয় নাগরিক। সেই দাবির সমর্থনে আদালতে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, দাদুর আমলের জমির নথি, পারিবারিক বিভিন্ন কাগজপত্র এবং বাবার এক আত্মীয়ের পাসপোর্টও জমা দেওয়া হয়।

তবে আদালত জানিয়ে দেয়, এই নথিগুলির কোনওটিই একা বা সম্মিলিতভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। আদালতের মতে, এগুলি মূলত পরিচয়পত্র বা প্রশাসনিক নথি। নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে এগুলিকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ধরা যায় না। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, নাগরিকত্ব নির্ধারিত হবে সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫৫ এবং ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারার ভিত্তিতে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তা প্রমাণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।

অন্যদিকে, আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, এর আগে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ওই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে এবং মামলাটি এখনও বিচারাধীন। আইনজীবীর যুক্তি, দাদুর আমলের জমির রেকর্ড, ভোটার ও আধার-সহ একাধিক সরকারি নথি থাকায় তাঁর মক্কেল ভারতীয় নাগরিক বলেই ধরে নেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, এত বিপুল সংখ্যক সরকারি নথি জাল করে তৈরি করা কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের প্রশ্নে আইন যা বলছে, তার বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র পরিচয়পত্র বা জমির নথির ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে আইন বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় ভবিষ্যতের মামলাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নথি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe