রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসমাবেশে বিরোধিতা প্রকাশের নতুন মাধ্যম হিসেবে ‘ডিম থেরাপি’ ক্রমশ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারকে ডিম ছোড়া রুখতে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বাড়তে শুরু করে। প্রথম বড় ঘটনা ঘটে কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি ডিম হামলার মুখে পড়েন। অভিযোগ, সেই ঘটনায় তাঁকে হেনস্তাও করা হয়। তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং হেলমেট পরে কোনওরকমে ঘটনাস্থল ছাড়তে হয়।
এরপর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক তৃণমূল নেতার ওপর একই ধরনের হামলার অভিযোগ ওঠে। আদালতে পেশের সময় সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করেও ডিম ছোড়া হয়। কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপরও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করেই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, 'সমাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? একজন-দু'জনকে গ্রেপ্তার করে কী হবে?' বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেন, 'সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।' জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানান, সরকার ইতিমধ্যেই মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার বার্তা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে প্রশাসনের পক্ষে পদক্ষেপ করা কঠিন।
অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংবেদনশীল এলাকাতেও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমনকি কয়েকজন জনপ্রতিনিধির মন্তব্যও এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। আদালতের কাছে তিনি অবিলম্বে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারির আবেদন জানান।
{{/usCountry}}অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংবেদনশীল এলাকাতেও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমনকি কয়েকজন জনপ্রতিনিধির মন্তব্যও এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। আদালতের কাছে তিনি অবিলম্বে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারির আবেদন জানান।
{{/usCountry}}দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সরকার এ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্টও আদালতে জমা দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন নজর।