...
...
Next Story

আদালতের নির্দেশ না মানলে কড়া ব্যবস্থা, কালীঘাট তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবসের সভার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের দায়ের করা সেই মামলার শুনানিতেই কলকাতা পুলিশ আদালতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়।

Published on: Jul 31, 2026, 14:42:37 IST
Advertisement

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা ঘিরে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া সতর্কবার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ২১ জুলাইয়ের সভা সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি।

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা ঘিরে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া সতর্কবার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। (Saikat Paul)
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা ঘিরে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া সতর্কবার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। (Saikat Paul)

ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবসের সভার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের দায়ের করা সেই মামলার শুনানিতেই কলকাতা পুলিশ আদালতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়। ওই রিপোর্টে সভার দিন আদালতের নির্দেশ কতটা মানা হয়েছিল, তার বিবরণ তুলে ধরা হয়।

পুলিশের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সভাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ, নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি সমর্থক সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের দু’দিকই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ ছিল অন্তত একটি রাস্তা যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশও কার্যকর হয়নি বলে পুলিশের দাবি। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভাস্থল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে গড়ায়। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে সেই অনুমতির সঙ্গে একাধিক শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সর্বাধিক আড়াই হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে সভা করতে হবে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে রাস্তার একদিক ব্যবহার করে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বেলা ১২টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টার মধ্যে সভা শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কলকাতা পুলিশের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই শর্তগুলির একাধিকটি লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশেষ করে উপস্থিতির সংখ্যা এবং রাস্তা খোলা রাখার নির্দেশ মানা হয়নি। সেই কারণেই আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য কালীঘাট তৃণমূলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।

এই পর্যবেক্ষণের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা এবং জনসমাবেশের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক শর্ত মেনে চলার বিষয়টি যে ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় থাকবে, হাইকোর্টের এই মন্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe