সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্যকে বাধা তৈরি না করার নির্দেশ - আইপ্যাক কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে এমনই সব আর্জি জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে হাইকোর্টে যে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, তাতে ‘পার্টি’-র সংখ্যা হল ছয়। তালিকায় আছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমাররা। তাছাড়াও রাজ্য সরকার, সিবিআইকেও পার্টি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ইডি সূত্রে খবর, কয়লা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে যে কয়লা পাচারের টাকা ইডির ঘরে গিয়েছে। কয়েক কোটি টাকা গোয়ার আইপ্যাকের কাছে গিয়েছিল। যার দায়িত্বে ছিলেন প্রতীক জৈন।
হাইকোর্টে কী কী দাবি করেছে ইডি?

১) পুরো ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছে ইডি। হাইকোর্টে ইডির তরফে আর্জি জানানো হয়েছে যে দ্রুত সিবিআই এফআইআর দায়ের করুক। দ্রুত তদন্ত শুরু করুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় যে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা গিয়েছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল বলে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে।
২) ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে তল্লাশি চলছে বলা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে পড়েন। জোর করে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে থাকা একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জোর করে নিয়ে যাওয়া সেইসব নথি যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয় ইডিকে। যতক্ষণ না ইডির হাতে সেই নথি বা ডিভাইস আসছে, ততক্ষণ কোনওরকম তথ্য বিকৃত যাতে না করা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হোক।
৩) সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে সিসিটিভি ফুটেজ আছে, তা সংরক্ষণ করে রাখা হোক।
{{/usCountry}}৩) সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে সিসিটিভি ফুটেজ আছে, তা সংরক্ষণ করে রাখা হোক।
{{/usCountry}}৪) রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হোক যে ইডির তদন্তে যেন বাধা না দেওয়া হয়।
জোড়া মামলা দায়ের, শুনানি হাইকোর্টে
এমনিতে আইপ্যাক কাণ্ডে মামলা ও পালটা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে ইডি। আবার আবার পালটা মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে একসঙ্গে দুটি মামলার শুনানি। তাছাড়াও পুরো ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর রুজু করেছে কলকাতা পুলিশ। শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মুখ্যমন্ত্রী।