রাজ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। শনিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধের টিকাকরণ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার উপর জোর দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট বয়সের কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। মূলত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাস থেকেই পরবর্তীকালে জরায়ুমুখের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই অল্প বয়সে টিকাকরণ করলে ভবিষ্যতে এই রোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব। রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে এই টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করা হল শনিবার থেকে। আগামিদিনে ৮৮০টি কেন্দ্রে চলবে টিকাকরণ। ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোরীরা এই টিকা নিতে পারবে। শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, মোট ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা এসেছে বাংলায়, যা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
কর্মসূচির সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ বেশি কার্যকর। সেই কারণেই সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্যব্যাপী টিকাকরণ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই টিকাকরণ কর্মসূচি চালানো হবে। এর পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এখনও অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগ এবং তার প্রতিরোধ সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। ফলে টিকাকরণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
{{/usCountry}}প্রশাসনের দাবি, সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই টিকাকরণ কর্মসূচি চালানো হবে। এর পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এখনও অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগ এবং তার প্রতিরোধ সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। ফলে টিকাকরণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
{{/usCountry}}মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক এবং মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি হাসপাতালগুলির উপর নজরদারি বাড়াতে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রসারকেও সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখের ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। সময়মতো টিকাকরণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাই রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি শুরু হওয়াকে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।