রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার দুর্গাপুজো ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী চেতলা অগ্রণী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন নাকি এবার করতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সম্ভাবনা ঘিরেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দেবী দুর্গার চক্ষুদানও কি করবেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী?

তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতিবছরই চেতলা অগ্রণীর পুজোর উদ্বোধন করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু উদ্বোধনই নয়, প্রতীকীভাবে দেবীর চক্ষুদানও করতেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবছরই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হতো। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এবার সেই ঐতিহ্য নতুন রূপ পেতে পারে বলেই জল্পনা।
এদিকে নতুন সরকার ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে। জানানো হয়েছে, যেসব ক্লাব সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তারাই অনুদান পাবে। যদিও উদ্বোধনের সময়সূচি, কার্নিভ্যালের আয়োজন কিংবা সরকারি অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তার মধ্যেই চেতলা অগ্রণীর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিভাজনের জেরে একাংশ কালীঘাট শিবিরে থাকলেও অন্য অংশ 'আসল তৃণমূল'-এর সঙ্গে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চেতলা অগ্রণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ফিরহাদ হাকিমও নতুন রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি শহরের একাধিক বড় পুজোর সঙ্গে যুক্ত কিছু রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এ বছরের দুর্গাপুজোর আয়োজনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে চেতলা অগ্রণী কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, পুজোর ঐতিহ্য ও আয়োজনে কোনও খামতি রাখা হবে না। প্রতিবারের মতো এবারও একই নিষ্ঠা ও জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। ক্লাবের পক্ষ থেকে সমীর ঘোষ জানান, পুজোর প্রায় ১০ দিন আগে বৈঠকে উদ্বোধন, চক্ষুদান-সহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চক্ষুদান করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
{{/usCountry}}তবে চেতলা অগ্রণী কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, পুজোর ঐতিহ্য ও আয়োজনে কোনও খামতি রাখা হবে না। প্রতিবারের মতো এবারও একই নিষ্ঠা ও জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। ক্লাবের পক্ষ থেকে সমীর ঘোষ জানান, পুজোর প্রায় ১০ দিন আগে বৈঠকে উদ্বোধন, চক্ষুদান-সহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চক্ষুদান করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
{{/usCountry}}তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার যদি এ বছরও দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যালের আয়োজন করে এবং আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে চেতলা অগ্রণী অবশ্যই অংশ নেবে। উল্লেখ্য, গতবারের মতো এবারও মণ্ডপ ও প্রতিমা পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ নির্মাণের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।