West Bengal Industrial Policy: রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে এবং লগ্নিকারীদের (Investor) উৎসাহিত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। দীর্ঘদিনের ‘শিল্প খরা’ কাটিয়ে বিনিয়োগ টানতে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে রাজ্য প্রশাসন। এই নীতিতে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বন্ধ বা রুগ্ন কারখানাগুলিকে নতুন জীবনদান এবং নতুন শিল্পদ্যোগকে স্বাগত জানানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ভবিষ্যৎ জমিনীতি এবং সিঙ্গুরের শিল্প পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে বড় ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

এদিন নিউটাউনে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পনীতি প্রকাশ করে সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাংলায় বিনিয়োগ টানার বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সিঙ্গুর নিয়ে কিছুটা একটা করব।' বলে রাখা প্রয়োজন, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সভার পাল্টা হিসেবে সিঙ্গুরের অদূরে সভা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে সিঙ্গুর কেন্দ্রে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শিল্প মহলের নজর ছিল সিঙ্গুরের দিকে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আগেই জানিয়েছিলেন, সিঙ্গুর নিয়ে তাঁদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্পায়নের কথা জানা গেল।
শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকের উপর গুলি চলবে না। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় দু’কোটি শিক্ষিত বেকার। কাজের অভাবে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন ৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। আদানি গোষ্ঠী আমাকে জানিয়েছিল, তাজপুরে রাজ্য সরকারের নিজস্ব এক একর জমিও ছিল না। ফলে সেখানে বন্দর তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে সিঙ্গুরে আমরা কিছু একটা করবই। নামী বাণিজ্যিক ভারী গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে কথাও হয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু মৌ স্বাক্ষর করে লোকদেখানো চমক দিতে চাই না। আগের সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করত। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা সেই রাস্তায় হাঁটব না।’ জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে অতীত ও বর্তমানের ফারাক স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমরা একদিকে যেমন বাম আমলের মতো জমির জন্য কৃষকদের ওপর গুলি চালাতে পারব না, অন্যদিকে আবার বিগত তৃণমূল সরকারের মতো শিল্পপতিদেরও বলতে পারব না যে আপনারা নিজেদের জমি নিজেরাই জোগাড় করে নিন। জমি অধিগ্রহণ ও পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্য সরকার পুরোপুরি শিল্পপতিদের পাশে থাকবে।’
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে (msme) মহিলা এবং রূপান্তরকামী কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফাণ্ড বা ইপিএফ বাবদ নিয়োগকারী যে অর্থ ব্যয় করবেন, তার পুরো অংশটিই টানা ১০ বছর ধরে ফেরত দেবে সরকার। তবে পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত ইউনিটে দুইশোর বেশি কর্মী কর্মরত আছেন, সেখানে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার অংশের ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে অর্ধেক অর্থ রাজ্য সরকার ফেরত দেবে। অন্যদিকে, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকায় কমপক্ষে দুইশো এবং অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত চারশো কর্মীযুক্ত বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ইপিএফের টাকা নিয়োগকর্তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুরনো কারখানাগুলির সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির শর্ত রাখা হয়েছে। প্ল্যান্ট ও যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ ইউনিট একশো শতাংশ সহায়তা পেলেও থ্রাস্ট সেক্টর বা অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকার ইউনিটগুলি যথাক্রমে ১১০ শতাংশ এবং ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পাবে। তবে এই সহায়তাগুলি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ধাপে ধাপে প্রদান করা হবে।
{{/usCountry}}নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে (msme) মহিলা এবং রূপান্তরকামী কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফাণ্ড বা ইপিএফ বাবদ নিয়োগকারী যে অর্থ ব্যয় করবেন, তার পুরো অংশটিই টানা ১০ বছর ধরে ফেরত দেবে সরকার। তবে পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত ইউনিটে দুইশোর বেশি কর্মী কর্মরত আছেন, সেখানে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার অংশের ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে অর্ধেক অর্থ রাজ্য সরকার ফেরত দেবে। অন্যদিকে, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকায় কমপক্ষে দুইশো এবং অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত চারশো কর্মীযুক্ত বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ইপিএফের টাকা নিয়োগকর্তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুরনো কারখানাগুলির সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির শর্ত রাখা হয়েছে। প্ল্যান্ট ও যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ ইউনিট একশো শতাংশ সহায়তা পেলেও থ্রাস্ট সেক্টর বা অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকার ইউনিটগুলি যথাক্রমে ১১০ শতাংশ এবং ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পাবে। তবে এই সহায়তাগুলি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ধাপে ধাপে প্রদান করা হবে।
{{/usCountry}}শিল্পে জোয়ার আনতে বিদ্যুতের মাশুল এবং জমির স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ খরচও পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে সারচার্জ সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, গ্রিন হাইড্রোজেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, জাহাজ নির্মাণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্র, ওষুধ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রকে। ডেটা সেন্টার, বিশেষ ইস্পাত, পেট্রোকেমিক্যালস, রত্ন ও গয়না শিল্প এবং মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস পার্ককেও কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন নীতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে প্রণোদনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা স্পষ্ট। তবে এই ঘোষণার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধা বাস্তবে পৌঁছে দেওয়ার উপর।