বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানে থাকা আরও পাঁচ যাত্রীর। আর সেই খবর পেয়ে আপাতত তাঁর পূর্বনির্ধারিত দিল্লি সফর স্থগিত করলেন শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সিঙ্গুরের সভা শেষ করে সরাসরি দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু জাতীয় রাজনীতির এই দুঃসংবাদে সফরসূচি বদলে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুর থেকেই সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত

বুধবার সিঙ্গুরে একটি প্রশাসনিক সভা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরিকল্পনা ছিল, সভা শেষে সেখান থেকেই তিনি দিল্লির বিমান ধরবেন। বাংলায় এসআইআর নিয়ে গত কয়েকমাসে যা ঘটেছে, সেই পরিস্থিতিতে মমতার এই দিল্লি সফর ছিল ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের একটি ব্যক্তিগত বিমানে দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবর আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে জাতীয় রাজনীতিতে। শোকজ্ঞাপন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও। উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সফর স্থগিত রাখলেন তিনি। সিঙ্গুরে যাওয়ার আগে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি এই বিষয়ে জানান। তবে বুধবারের বদলে বৃহস্পতিবার যদি তিনি দিল্লি যান, সেক্ষেত্রে তাঁর কী কর্মসূচি হবে তা নিয়ে কিছু জানা যায়নি। এই সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে যাবেন, নাকি প্রতিবাদে ধরনায় বসবেন, তাও এখনও স্পষ্ট নয়।
দিল্লি সফরের প্রেক্ষাপট
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই অত্যন্ত সরব। তাঁর অভিযোগ, তালিকার নাম বাদ দিয়ে বৈধ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে পারেন তিনি। দিল্লি যাত্রার আগে জাতীয় স্তরে জোট–ঐক্যের বার্তা দিতে নবান্নে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাক কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। অখিলেশ যাদব বলেন, 'দিদির কাছে ইডি হেরেছে। এবার বিজেপি হারবে। গোটা দেশে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারেন একমাত্র দিদি।' সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লির এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচি নিয়ে জানা না গেলেও সিংহভাগটাই যে এসআইআর নিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রায় দেড় বছর পর দিল্লি সফরে যেতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার দাবি নিয়ে বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছেন, নীতি আয়োগের মিটিংয়ে সরব হয়েছেন, তাঁকে বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত খানিকটা ক্ষোভেই দিল্লি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তবে এবার যাচ্ছেন।
এসআইআর ও তৃণমূল
{{/usCountry}}রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই অত্যন্ত সরব। তাঁর অভিযোগ, তালিকার নাম বাদ দিয়ে বৈধ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে পারেন তিনি। দিল্লি যাত্রার আগে জাতীয় স্তরে জোট–ঐক্যের বার্তা দিতে নবান্নে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাক কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। অখিলেশ যাদব বলেন, 'দিদির কাছে ইডি হেরেছে। এবার বিজেপি হারবে। গোটা দেশে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারেন একমাত্র দিদি।' সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লির এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচি নিয়ে জানা না গেলেও সিংহভাগটাই যে এসআইআর নিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রায় দেড় বছর পর দিল্লি সফরে যেতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার দাবি নিয়ে বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছেন, নীতি আয়োগের মিটিংয়ে সরব হয়েছেন, তাঁকে বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত খানিকটা ক্ষোভেই দিল্লি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তবে এবার যাচ্ছেন।
এসআইআর ও তৃণমূল
{{/usCountry}}যেভাবে ভোটার তালিকায় সংশোধনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে তাতে মুখ্যমন্ত্রী দারুণ ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি এসআইআরকে কেন্দ্র করে একশোর উপর মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এসআইআরে নিহতদের পরিবারদেরও দিল্লি নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদে শামিল করা হতে পারে। ভোটার তালিকায় ‘মৃত’দের মঞ্চে হাজির করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে কোনও কর্মসূচি হলে এদেরও শামিল করা হতে পারে বলে খবর। কমিশন যেভাবে বিজেপির কথায় চলছে, তা নিয়ে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। এবার সেটাই জাতীয় রাজনীতিতে তুলে ধরবেন? সেদিকেই নজর এখন সবার।