...
...
Next Story

Mamata Banerjee: 'শুনতে আপনাদের হবে...,' ভরামঞ্চ থেকেই দলীয় প্রার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

Mamata Banerjee: মানুষের পাশে থেকে সকলের কথা শোনার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের কথা শুনলে ক্ষতি নেই।' নিজের উদাহরণ দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, তিনি মানুষের কথা শুনতে পারলে অন্যান্য নেতারা কেন শুনবেন না।

Published on: Apr 8, 2026, 16:16:40 IST
Advertisement

Mamata Banerjee: 'শুনতে আপনাদের হবে, আপনারা বাধ্য।' আরামবাগের কালিপুর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জনসভা থেকে সরাসরি দলীয় প্রার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। রাজ্যে এক ‘সাংঘাতিক’ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হচ্ছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ না দিয়েই প্রথম দফার ভোটের আগে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হল।

দলীয় প্রার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি

দলীয় প্রার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর (@AITCofficial X)
দলীয় প্রার্থীদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর (@AITCofficial X)

বুধবার আরামবাগের সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থীদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি সব প্রার্থীদের বলব সিনিয়রদের সম্মান দিয়ে, ছাত্র-যুব-মহিলাদের কাছে ডেকে সবাই কাজ করবেন। আর যে করবে না, আমার থেকে বড় শত্রু তার কেউ হবে না।' কর্মীদের সম্মান দেওয়ার বার্তা দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'প্রার্থী সবাই হতে পারে না। বুথ আগলায় কর্মীরা। ব্লক আগলায় কর্মীরা। এসআইআর করেছে বিএলএ ১ এবং ২। যারা কাজ করে তারা নিচে বসে। কিন্তু তাদের গুরুত্ব সবথেকে বেশি।' মানুষের পাশে থেকে সকলের কথা শোনার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের কথা শুনলে ক্ষতি নেই।' নিজের উদাহরণ দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, তিনি মানুষের কথা শুনতে পারলে অন্যান্য নেতারা কেন শুনবেন না। এদিন দলীয় কর্মীদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি সেই কর্মীকে ভালবাসি যে মাটির মানুষকে চেনে, মাটির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। গর্ব নয়, লোকে দশটা কথা বললে শুনবেন। শুনলে ক্ষতি কী আছে। আমি যদি শুনতে পারি আপনারা কি বড় নেতা হয়ে গেছেন যে শুনবেন না? শুনতে আপনাদের হবে, আপনারা বাধ্য।'

এসআইআর

বাংলা থেকে আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বুধবার ফের একবার তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'যারা কাজ জানত তাদের সবাইকে বদলে দিয়েছে। কেউ বিজেপির লোক নয়। এরা আগামীদিনের বাংলায় কাজ করবেন নিরপেক্ষভাবে।' বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, 'আর তো মাত্র ১ মাস। তারপর বিজেপি এপাশ ওপাশ ধপাস।' পাশাপাশি অসমে হওয়া এনআরসি এবং তাতে নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। ভুলবেন না অসমে এনআরসি হয়েছিল। সেখানে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেছিল তাঁর মধ্যে ১৩ লক্ষ ছিল হিন্দু নাম, ছয় লক্ষ ছিল মুসলিম।'

নিশানায় প্রধানমন্ত্রী?

এদিন বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন শেষ হতে আর হাতেগোনা কয়েকটা দিন বাকি, তারপরেই বিজেপি ধরাশায়ী হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তোপ দাগেন তিনি। বাংলায় এসে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন ফের তোলেন, এই ধরণের মন্তব্যের সময় কেন প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘লিউকোপ্লাস্ট’ লাগানো থাকে? অর্থাৎ এই সব স্পর্শকাতর বিষয়ে কেন তিনি নীরব থাকেন, সেই প্রশ্নই ছুড়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা সভা জুড়েই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিজেপি বিরোধী প্রচারের সুর বেঁধে দেন তৃণমূল নেত্রী।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe