...
...
Next Story

'১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে...,' ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ঐতিহাসিক সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর, পাশে দেব-রচনা

বুধবার সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনাই করেননি, বরং রাজ্যের ২০ লক্ষ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-২ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা হাতে তুলে দেন।

Published on: Jan 28, 2026, 18:03:09 IST
Advertisement

বছরের পর বছর বন্যার আতঙ্ক, অবশেষে তার অবসান ঘটানোর পথে ঘাটাল। প্রধানমন্ত্রীর সভার ১০ দিন পর হুগলির সিঙ্গুর থেকে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণেই এতদিন প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এদিন মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের তিন বারের সাংসদ-অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারী এবং রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইঞা, স্থানীয় সাংসদ-অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ঐতিহাসিক সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ঐতিহাসিক সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)

বুধবার সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনাই করেননি, বরং রাজ্যের ২০ লক্ষ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-২ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা হাতে তুলে দেন। এই খাতে রাজ্যের ব্যয় হবে ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এই মঞ্চ থেকেই মোট ১০৭৭ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, যার অর্থমূল্য ৫৬৯৪ কোটি টাকা এবং ৬১৬ টি প্রকল্পের শিলান্যাস যার অর্থমূল্য ২১৮৩ কোটি টাকা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঘাটালবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি হলেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণেই এতদিন প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।তাঁর কথায়, 'দেব আমাকে বার বার বলত। বন্যায় বার বার ঘাটালে ছুটে গিয়েছি। ডিভিসির জলে ভাসত। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছি। ওরা দেয় শুধু ধোঁকা। ওদের বানিয়ে বোকা আমরা দিলাম টাকা।’

তিনি জানান, ৫০০ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। বাকি হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হবে শীঘ্রই। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেকে বড় কথা বলেন। রাখেন না। আমি মরে যাব, তাও ভাল। আমি কথা রাখি ১০০ শতাংশ। জুমলা করি না। আমি ডবল ইঞ্জিন সরকারের নই। আমি মা-মাটি-মানুষের সরকার।’ তিনি জানিয়েছেন, 'ঘাটালের মানুষ বছরের পর বছর জলযন্ত্রণার শিকার। এই প্রকল্প তাদের স্থায়ী সমাধান দেবে।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এক কোটি বাংলার বাড়ি আগেই হয়েছে। কিছু দিন আগে ১২ লক্ষ বাড়ি দিয়েছি। দিল্লি এক টাকা দেয়নি। এই দু’মাসে ৩২ লক্ষ বাড়ির টাকা দেওয়া হবে। টাকা ঢুকলেই বাড়ির জন্য ইট পুঁতবেন। চাই না, কেউ কষ্টে থাকুন। মাথার ছাদ থাকুক সকলের।’

দেবের প্রতিক্রিয়া

গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব স্পষ্টভাবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এমনকী, যথাযথ প্রতিশ্রুতি না পেলে তৃতীয় বারের জন্য প্রার্থী হবেন না, এই বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। এরপরই দেবকে পাশে নিয়ে ঘাটালে নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, কেন্দ্র বঞ্চনা করলেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকারই করবে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর প্রকল্পের কাজ গতি পায়, আর বিধানসভা ভোটের আগেই তার উদ্বোধন রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। প্রশাসনের দাবি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লক- ঘাটাল, দাসপুর ১ ও ২, চন্দ্রকোনা ১ ও ২, কেশপুর ও ডেবরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক-পাঁশকুড়া ১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক, পাশাপাশি ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভার মানুষ উপকৃত হবেন। মোট প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বন্যা ও জলযন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন বলে প্রশাসনের দাবি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe