CM Suvendu Adhikari: ‘জিটিএ দুর্নীতিতে কাউকে ছাড় নয়।’ মঙ্গলবার উত্তরকন্যার ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি কালিম্পংয়ের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি। জিটিএ-তে বরাদ্দ বৃদ্ধিরও আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিন উত্তরবঙ্গ (North Bengal) সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কপ্টারে তাঁর কালিম্পং যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কালিম্পং যাওয়ার পথে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ থাকায় পাহাড়ি এলাকায় চপার অবতরণে সমস্যা হয়। বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর কাটার পর তা ফিরে যায় শিলিগুড়িতে। সেখানে উত্তরকন্যায় আগের পরিকল্পনামতো প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সে আধিকারিকদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার আরও একবার জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে জিটিএ-তে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আরও একবার সেই বিষয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। জিটিএ-তে লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, '১১ বোর্ডের টাকা নয়ছয় হয়েছে। পাহাড়ে পানীয় জল, শিক্ষক দুর্নীতি থেকে একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। টাকা লুট হয়েছে।' একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, 'দুর্নীতির ইস্যুতে তদন্ত হবে। এফআইআরও হবে। গ্রেফতারিও হবে।'
শুধু তাই নয়, লুটের টাকা ফেরত নেওয়া হবে। সেই কথাও জোর গলায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাহাড়ের উন্নয়নই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। জিটিএ-র বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে। কালিম্পংবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সেখানে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন বাজেটে দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা থেকে রওনা হওয়ার আগেই তিনি স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তী কালিম্পং সফরেই এই মেডিক্যাল কলেজের ভূমিপূজন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমার আওতায় কালিম্পং জেলায় ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৫০৩ জন মানুষকে 'আয়ুষ্মান ভারত' কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যেই ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৩১১টি কার্ড সক্রিয় হয়েছে। যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা'র অধীনে এনে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। চলতি বছর চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ পুজো বোনাস দেওয়া হবে। বন্ধ চা বাগানও খোলার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। সেই বার্তাও মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ২৫০ কোটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়েছে।