CM Suvendu Adhikari: বাম জমানায় একের পর এক কারখানার তালা পড়েছে। কাজ খুঁইয়ে শ্রমিকের আত্মহত্যার খবরও সামনে এসেছে। বেকারের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। পেটের ভাত জোগাতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল বাংলার বাসিন্দাদের। ৩৪ বছরের শিল্পের ইতিহাসে 'কালো অধ্যায়ের' সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও ধামা চাপাই ছিল রাজ্যের শিল্পায়নের আশা। এবার পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পরিবেশ ফেরাতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'এবার ডাবল ইঞ্জিনের জাদু দেখবে বাংলা।' তাঁর দাবি, 'সবে তো শুরু। এবার ভোটের মতো বাংলায় শিল্পের কাউন্টিং শুরু হবে।'

বাম আমলে শ্রমিকের স্বার্থরক্ষার অছিলায় দিনের পর দিন ইউনিয়নগুলির গুণ্ডারাজ রীতিমতো গলার ফাঁস হয়ে গিয়েছিল শ্রমিকদের কাছে। একে একে জুটমিলের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। উত্তরোত্তর বেড়েছিল বাংলায় কর্মহারাদের সংখ্যা। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বললেন, 'গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে 'ইকোনমিক্যাল ডিজাস্টার' হয়ে গিয়েছে। বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়েছেন বিনিয়োগকারী-শিল্পপতিরা।' তবে এবার বাংলায় ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগী সরকার। পাশাপাশি বাম জমানায় শিল্প-ক্ষতের কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, 'আইন শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। এজন্য গুন্ডা দমন আইন আনা হয়েছে। কারখানার গেটে তালা লাগালে গ্রেফতার হবে। কারখানা ভেঙে দিলে তিনগুণ আদায় করব। কারখানায় ভাঙচুর করলেই অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। নো সিন্ডিকেট, নো কাটমানি, নো উসুলি। জানতে পারলেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব।'
বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, 'বাংলায় এবার ব্যবসা করতে আর মাথা ঘামাতে হবে না শিল্পপতি-বিনিয়োগকারীদের। সব ব্যবস্থা করবে সরকার। আগে তো উচ্চস্তর থেকে লাইসেন্স পাস হয়ে গেলেও মিউনিসিপ্যালিটি, পঞ্চায়েতগুলোকে কাটমানি দেত হত। এখন এসব চলবে না। বাংলায় আইনশৃঙ্খলা পরিবর্তন করেছি।' পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, 'কত বিনিয়োগ করলেন তার উপরে নয় বার্ষিক ইনটেনসিভ নয়, বরং কত রাজ্যে কত যুবক চাকরি পেল, তার উপরে নির্ধারণ হবে।' নতুন সরকারের আমলে মাত্র ৯ সপ্তাহে ব্যাপক হারে লগ্নি এসেছে। পাশাপাশি, অনেক গ্রুপের বিনিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শ, তিনি যেন এই প্ল্যান্টের ভিতরটা এসে একবার ঘুরে দেখে যান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, 'আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তরপ্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।'
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।' সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, শিল্পায়নের নামে ভিটেহারা হবেন না কেউ। সবটাই নির্ভর করবে আলোচনা, উভয়পক্ষের মতামত এবং নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ উপরেই। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। তিনি ব্যাটারি প্ল্যান্ট-সহ আরও দু’টি প্ল্যান্টে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্গাপুজোর আগে হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্টও বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে। দাদনপাত্রবাড়ে যে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে, সেখানে গৌতম আদানি বিনিয়োগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
{{/usCountry}}মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।' সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, শিল্পায়নের নামে ভিটেহারা হবেন না কেউ। সবটাই নির্ভর করবে আলোচনা, উভয়পক্ষের মতামত এবং নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ উপরেই। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। তিনি ব্যাটারি প্ল্যান্ট-সহ আরও দু’টি প্ল্যান্টে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্গাপুজোর আগে হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্টও বড় বিনিয়োগ করতে চলেছে। দাদনপাত্রবাড়ে যে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে, সেখানে গৌতম আদানি বিনিয়োগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
{{/usCountry}}