Suvendu visits Swasthya Bhawan: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং জনমুখী করে তুলতে স্বাস্থ্যভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার পথে হঠাৎই তিনি স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে স্বাস্থ্য দফতরের কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন। স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি সরকারি ও জেলা হাসপাতাল ইতিমধ্যেই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আউটডোর, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে রান্নাঘর পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে নজরদারি চালানো হবে। তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।
এই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যভবনে একটি অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের উপর নজর রাখা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সাধারণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি বারবার একই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালগুলিকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মীর জন্য আলাদা রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, নিরাপত্তারক্ষী এবং ট্রলি চালকদের পৃথক ব্যাজ থাকলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সহজেই কর্মীদের চিহ্নিত করতে পারবেন।
দুর্ঘটনা বা বড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কেন্দ্রগুলিতে এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীর পরিজনদের জন্য হাসপাতালের জমিতেই কম খরচে বা বিনামূল্যে রাত কাটানোর আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটকে ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}দুর্ঘটনা বা বড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কেন্দ্রগুলিতে এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীর পরিজনদের জন্য হাসপাতালের জমিতেই কম খরচে বা বিনামূল্যে রাত কাটানোর আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটকে ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ১০০টি নতুন বেড চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড যুক্ত হবে। পাশাপাশি আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটেও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ করে পরিষেবা আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল, আইসিইউ-তে ভর্তি শিশু এবং আইসিডিএস প্রকল্পের গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চুক্তি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ বেড দরিদ্র মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও তা এতদিন মানা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের চাপের মুখে আপাতত ১০ শতাংশ ফ্রি বেড চালু করতে রাজি হয়েছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলি।
এছাড়া নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এই হাসপাতালের ১,০০০টি বেড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের অতীতের কোনও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আইন মেনে দ্রুত পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।