...
...
Next Story

'BJP ও CPIM-র লিখিত জোট বলেই কেরলের নাম পালটাল', দাবি মমতার, বাংলা নিয়ে লড়বেন!

রাজ্যের বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল করে 'বাংলা' করার জন্য বিধানসভায় প্রস্তাব নিয়ে আসে।

Published on: Feb 24, 2026, 17:48:55 IST
Advertisement

বিজেপি এবং সিপিএমের ‘ লিখিত যোগের’ কারণেই কেরলের নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। এভাবেই বাংলাকে ফের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করেই ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে কেরলবাসীকে তাঁদের দীর্ঘ দিনের দাবিপূরণের জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাংলাকে উপেক্ষা

কেন্দ্রকে 'দ্বিচারিতা' তোপ মুখ্যমন্ত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)
কেন্দ্রকে 'দ্বিচারিতা' তোপ মুখ্যমন্ত্রীর (সৌজন্যে টুইটার)

বিধানসভা ঠিক আগে কার্যত ঠান্ডা ঘরে চলে যাওয়া কেরলের নাম বদলের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার নতুন নাম ‘কেরলম’-এ সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তারপরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চরম বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেরলের বাম সরকারের প্রস্তাবে সায় দিলেও বাংলার দীর্ঘদিনের দাবিকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে দিল্লি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে ওয়াই-জেডে পড়ে থাকতে হয় কেন? আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা যখন পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কোথাও গেলে আমাকে সবার শেষে সুযোগ দেওয়া হয় এই নামের বর্ণানুক্রমে।’ তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, চিন্তা, দর্শন- সব ভেবে রাজ্যটার নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। বিধানসভায় দু’ থেকে তিন বার পাশ করেছি। আপনারা দেননি।’

বাংলাবিরোধী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘একবার যখন দিলাম (প্রস্তাব), ওরা বলল, আপনারা নামটাকে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিনটি ভাষায় এক শব্দ এক করে দিন। তখন আমরা আবার বিধানসভায় পাশ করালাম (নতুন প্রস্তাব)। হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা- তিন ভাষাতেই বাংলা করা হয়।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারপরেও সেই নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরে যত বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যখন এখানে বৈঠক করতে এসেছেন, তখন সেই বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও কোনও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘কেন জানি না! ওরা (বিজেপি সরকার) বাংলা-বিরোধী বলেই আমার মনে হয়। ওরা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করে। বাংলা কথাটা নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য বলে। কিন্তু ওরা বাংলাবিরোধী। সেই জন্য বাংলা নামটা করল না।’

কেরলে 'লিখিত যোগ'

রাজ্যের বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল করে 'বাংলা' করার জন্য বিধানসভায় প্রস্তাব নিয়ে আসে। সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার পর তা কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য পাঠায় রাজ্য। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে রাজ্যকে তিন ভাষায় তিনটি ভিন্ন ভিন্ন নামের পরিবর্তে একটিই নাম রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই মতো ২০১৮ সালে ফের রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যের নাম সব ভাষাতেই বাংলা রাখার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এরপর সেই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তারপর থেকে অবশ্য নাম বদলের এই প্রস্তাব নিয়ে আর নাড়াচাড়া করেনি কেন্দ্র।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks