Halisahar custodial death controversy: পুলিশি হেফাজতে কাঁচরাপাড়ার এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি (Halisahar custodial death controversy)। এই ঘটনার ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ সোমবার হালিশহরে গিয়ে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং, জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। এদিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

রবিবারের চরম উত্তেজনার পর সোমবার সকাল থেকেই হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও আঁটোসাঁটো করা হয়। জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তা হেঁটে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকেন তিনি। সেখানে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর হালিশহর থানায় গিয়ে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পুলিশি হ্রেফাজতে মৃত্যুর এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মৃত্যুর খবর পেয়ে রবিবার মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচরাপাড়ায় যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। কিন্তু রবিবারের সেই সফরে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও ছেঁড়া চটি ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকার ও পুলিশকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘নিরাপত্তা ভুলে যান, লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমার মাথা ফেটে যেতে পারত, আমরা এখানে মরে যেতাম।’ অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয় যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে ও উস্কানি দিতেই সেখানে গিয়েছিলেন, যার জেরে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করেন, ‘এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে!’ তিনি আরও বলেন, 'একটা লিখিত চিঠি আমাকে মৃতের স্ত্রী দিয়েছেন। মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। তাই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। দেখা করেননি। দাদা শুধু বলেছিলেন বিচার চাই। বিচার দিতে পারবে রাজ্য প্রশাসন। এটা বড় পাওনা।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'বাংলার রাজনীতিতে পুলিশের গুলি চালানো, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি, বন্দুকবাজি এবং পুলিশের কিংবা রাজনৈতিক হেফাজতে খুন করা হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় উদাহরণ দেখাতে পারবেন না রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কারও বাড়িতে এসেছে। এর উদাহরণ পাবেন না। যা এখন দেখতে পাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছে, এটাই বড় ব্যাপার।' তিনি আরও বলেন, 'ওঁর স্ত্রী আমাকে বলেছে, আপনাকে দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দু'টি বাচ্চা রয়েছে। আমার ভবিষ্যৎ ও বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে। তৃতীয়টা বলেননি। এটা আমরা বলেছি। পুলিশ লকআপে মারা গিয়েছেন, তা দিনের মতো সত্যি। কতটা অত্যাচারে মারা গিয়েছেন, তা আমি বলতে পারব না। যতক্ষণ না রিপোর্ট পাচ্ছি, তা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলতে পারব না।' মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় আইসিকে ক্লোজ ও তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছেন। সাধারণত এই ধরনের ঘটনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও তদন্ত করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব বিজ্ঞপ্তি দেবেন বিকেলে। এছাড়া, নিহতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অ্যাটেনডেন্টরা ১২ মাস ১৫ হাজার করে বেতন পাবেন। ১ বছর পর গ্রুপ ডি স্টাফ হবেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'পরীক্ষা ছাড়া তো আমি চাকরি দিতে পারি না। তাই এই চাকরি দিলাম। উনি রাজি হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে শিশুদের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।'
{{/usCountry}}মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'বাংলার রাজনীতিতে পুলিশের গুলি চালানো, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি, বন্দুকবাজি এবং পুলিশের কিংবা রাজনৈতিক হেফাজতে খুন করা হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় উদাহরণ দেখাতে পারবেন না রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কারও বাড়িতে এসেছে। এর উদাহরণ পাবেন না। যা এখন দেখতে পাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছে, এটাই বড় ব্যাপার।' তিনি আরও বলেন, 'ওঁর স্ত্রী আমাকে বলেছে, আপনাকে দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দু'টি বাচ্চা রয়েছে। আমার ভবিষ্যৎ ও বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে। তৃতীয়টা বলেননি। এটা আমরা বলেছি। পুলিশ লকআপে মারা গিয়েছেন, তা দিনের মতো সত্যি। কতটা অত্যাচারে মারা গিয়েছেন, তা আমি বলতে পারব না। যতক্ষণ না রিপোর্ট পাচ্ছি, তা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলতে পারব না।' মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় আইসিকে ক্লোজ ও তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছেন। সাধারণত এই ধরনের ঘটনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও তদন্ত করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব বিজ্ঞপ্তি দেবেন বিকেলে। এছাড়া, নিহতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অ্যাটেনডেন্টরা ১২ মাস ১৫ হাজার করে বেতন পাবেন। ১ বছর পর গ্রুপ ডি স্টাফ হবেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'পরীক্ষা ছাড়া তো আমি চাকরি দিতে পারি না। তাই এই চাকরি দিলাম। উনি রাজি হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে শিশুদের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।'
{{/usCountry}}পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। গত শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু এর ঠিক একদিন পর, অর্থাৎ শনিবার সকালে খবর আসে যে পুলিশি হেফাজতেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। মৃতার স্ত্রী জেনি শর্মা কেওটের সরাসরি অভিযোগ, লকআপের ভেতরে পুলিশের বেধড়ক মারধর ও অত্যাচারের ফলেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।