চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এবার নতুন বিতর্ক। ঠাকুর দেখতে মণ্ডপে ঢোকার জন্য কি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছিল ভিআইপি পাস? তদন্তে নেমে এমনই একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশ। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর দু'ধরনের ভিআইপি পাসের হদিস মিলেছে। একটি নামী ই-কমার্স সংস্থার পাস। তার দাম ৩৯৯ টাকা। অন্যটি পুজো কমিটির নিজস্ব পাস। তাতে রয়েছে কমিটির নাম, পুজোর থিম এবং বিশেষ হলোগ্রাম। অভিযোগ, ওই পাসও টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যদিও পুজো কমিটির নিজস্ব পাসে কোনও দাম লেখা নেই। কার অনুমতিতে এই পাস বিলি বা বিক্রি করা হয়েছিল, কতগুলি পাস ছাপানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
৩৯৯ টাকার পাসে একাধিক পুজোর নাম

চোরবাগানের পুজোয় প্রবেশের জন্য যে পাসের হদিস মিলেছে, তার একটিতে চোরবাগান সর্বজনীনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি পুজো কমিটির নাম রয়েছে। নামী একটি ই-কমার্স সংস্থার তরফে এই পাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পাসটির দাম ৩৯৯ টাকা। অন্য দিকে, চোরবাগান সর্বজনীনের নিজস্ব পাসেও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সেই পাসে পুজো কমিটির নাম, এবারের থিম এবং বিশেষ হলোগ্রাম রয়েছে। কোন রাস্তা দিয়ে মণ্ডপে ঢুকতে হবে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবেশপথ হিসাবে বিধান সরণির কথা লেখা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্পনসরের নামও।
তবে পুজো কমিটির নিজস্ব পাসে কোনও দাম উল্লেখ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও পুলিশের সন্দেহ, এই পাসের কয়েকটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাসের ধরন এবং তার ব্যবহার নিয়ে তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন।
পাস ছাড়া ঠাকুর দেখা যাবে না?
পাস ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি মণ্ডপে প্রবেশের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, পাস ছাড়া চোরবাগানের ঠাকুর দেখা যাবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণাকে ঘিরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করছেন কয়েক জন। পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্তে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কী ভাবে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ করানো হচ্ছিল, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা ছিল এবং ভিআইপি পাসধারীদের প্রবেশের নিয়ম কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পাস সংক্রান্ত ঘোষণার সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়।
তদন্তে পুলিশের একাধিক প্রশ্ন
{{/usCountry}}পাস ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি মণ্ডপে প্রবেশের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, পাস ছাড়া চোরবাগানের ঠাকুর দেখা যাবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণাকে ঘিরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করছেন কয়েক জন। পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্তে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কী ভাবে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ করানো হচ্ছিল, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা ছিল এবং ভিআইপি পাসধারীদের প্রবেশের নিয়ম কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পাস সংক্রান্ত ঘোষণার সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়।
তদন্তে পুলিশের একাধিক প্রশ্ন
{{/usCountry}}চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর পাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পাস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। কার অনুমতিতে পাস বিলি বা বিক্রি করা হয়েছিল? কতগুলি পাস তৈরি হয়েছিল? পাস বিক্রির টাকা কোথায় গিয়েছে? পুজো কমিটির নিজস্ব হলোগ্রাম দেওয়া পাসও কি অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পাস বিলি ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গোটা ঘটনায় কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি এখনও করা হয়নি। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মণ্ডপের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমনিতেই প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে ভিআইপি পাসের বিতর্ক নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। পাস বিলির নিয়ম কী ছিল এবং তার সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ হলেই তা স্পষ্ট হবে।