শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের এক্সিট গেটে ভিড়ের চাপে অনভিপ্রেত ও ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। পদপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের। আহত কমপক্ষে ৩৫ জন,অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনিক নির্দেশে উত্তর কলকাতার জনপ্রিয় পুজো ‘টালা প্রত্যয়’ এবং দক্ষিণ কলকাতার প্রখ্যাত মেগা পুজো ‘চেতলা অগ্রণী’-র মণ্ডপ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আপতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অ্যালান পার্কের আলো-প্রদর্শনীও।

প্রশাসনিক নির্দেশ ও টালা প্রত্যয়ের বিবৃতি:
চোরবাগানের ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। চোরবাগানের মণ্ডপ আপতত বন্ধ। পাশাপাশি টালা প্রত্যয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে একটি জরুরি বার্তা পোস্ট করে জানানো হয়—'প্রশাসনিক নির্দেশ অনুসারে টালা প্রত্যয় পূজা মণ্ডপ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকছে... আমরা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভাবি, নিরাপদে পূজা উপভোগ করুন।'
প্রবল ভিড়ের জেরে বন্ধ চেতলা অগ্রণীও:
একইভাবে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড় আকর্ষণ চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপেও সপ্তমী ও অষ্টমীর রাতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং সুরক্ষার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ ও পুজো কমিটি।
চোরবাগান-কাণ্ডের প্রেক্ষাপট:
শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৪০ মিনিট নাগাদ গিরিশ পার্ক এলাকার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে থাকা হাজার হাজার দর্শনার্থী একযোগে মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করেন। ফলে এক্সিট গেটের কাছে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি ও পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে একাধিক দর্শনার্থী আহত হন এবং তাঁদের দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG) এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরজুড়ে বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG) এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরজুড়ে বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী, আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। ওদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পুজো কমিটিগুলোর কাছে আর্জি রাখেন, 'তারা যাতে দেখে নেয়, যাতে তাদেরও ওখানে যাতে কোনও ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং ওই থিমপুজো, ভিতরে আলো নেই, সরু জায়গা, বহু জায়গায় এগুলো মানে পুজো কমিটি এবং লোকাল শিল্পীদের যে বিষয়গুলো ছিল....।'
তিনি আরও বলেন, 'এখানে পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা একটা মাইকে ঘোষণা করেছেন, ঘোষণার ফলেই প্রাথমিকভাবে আমরা এটা শুনেছি। যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি রিপোর্ট করেছেন। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা পরিবারের পাশে আছি।'