পুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গিয়েছিল বিষাদে। সেই চোরবাগান কাণ্ডে এবার আটক একাধিক। সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের হাতে এখনও পর্যন্ত আটক হয়েছেন ১০ জন। কী ভাবে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথ, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মাইকে ঘোষণা, তার পরেই হুড়োহুড়ি

ঘটনাটি ঘটে শনিবার, সপ্তমীর সন্ধ্যায়। তখন ঘড়িতে প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মণ্ডপে মাইকে কিছু ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেকে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় ভিড়ের চাপে একের পর এক মানুষ পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহতদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। ঘটনার খবর পেয়েই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন। তার পরেই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানো হবে। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য একজন বর্তমান বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার আর্জি জানানো হবে। তাঁর তত্ত্বাবধানে সিট ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কত মানুষের প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল, বাস্তবে কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই ১০ জনকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি
{{/usCountry}}তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কত মানুষের প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল, বাস্তবে কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই ১০ জনকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি
{{/usCountry}}মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, প্রতিটি পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘটনার পর আপাতত পুলিশ ঘিরে রেখেছে চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ। ভিড় সামলানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে রবিবার একটি বিশেষ দল পরিদর্শনে যাবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরসুমে এমন বিপর্যয় কেন ঘটল, তার উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়। শুধুই অতিরিক্ত ভিড়, না কি তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল প্রশাসনিক বা আয়োজকদের কোনও গাফিলতি, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরেই।