উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের অতিরিক্ত চাপ ও পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে। এই ঘটনায় নিহত ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বড় আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, চোরবাগান পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর নাম সামনে আসতেই রাজনৈতিক তরজা চরম আকার ধারণ করেছে।

রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা ঘোষণা:
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আহতদের দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, রাজ্য সরকার এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে—
নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য: চোরবাগান ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো প্রতিটি নিহতের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে এবং পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে হোম গার্ড (Home Guard) বা সরকারি সংস্থায় বিশেষ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমস্ত আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। গুরুতর আহতদের জন্য আলাদা আর্থিক সহায়তার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশ দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এককালীন ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য: প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য: প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
{{/usCountry}}শুভেন্দুর ভাইপোকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল:
রাজ্য সরকারের এই ক্ষতিপূরণ ঘোষণার মাঝেই ঘটনাটিতে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগে উঠে এসেছে চোরবাগান পুজো কমিটির অন্যতম মূল পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর নাম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া বার্তায় অভিযোগ তোলা হয় যে, চোরবাগানের মতো জনপ্রিয় মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তার ন্যূনতম বন্দোবস্ত ছিল না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়— বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত পরিকল্পনা কেন ছিল না? পুজোয় বৃষ্টি হতে পারে জেনেও কেন ভিড় সামলানোর জন্য বিকল্প সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি? মমতা-পন্থী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লেখেন, 'চোরবাগান সর্বজনীন পুজো কমিটিতে শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোর যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। অপরাধী ভাইপোকে জেলে কবে ঢোকাচ্ছেন শুভেন্দু- বাবু ?
১৮ জনের মৃত্যুর দাগ কিন্তু ডবল ইঞ্জিন ওয়াশিং মেশিনেও উঠবে না আর ভাইপোর সাথে বিজয় ওঝা আর তমোঘ্ন ঘোষকেও ভুলবেন না । রাজধর্ম পালন করুন'।