...
...
Next Story

Chorbagan Stampede Update: ‘চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু দেখেছি, আমিও হয়ত বাঁচতাম না’, চোরবাগান কাণ্ডে উঠছে যে যে প্রশ্ন…

উত্তর কলকাতার চোরবাগানে মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে মণ্ডপের সরু প্রবেশপথ, পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং বৃষ্টির মধ্যে আচমকা ভিড় বেড়ে যাওয়ার কথা।

Published on: Oct 18, 2026, 08:31:37 IST
Advertisement

উৎসবের আলো নিভে গেল মুহূর্তে। চার দিকে মানুষের চিৎকার। কেউ মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন, কেউ ভিড়ের চাপে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আর সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই চোখের সামনে মাকে হারালেন ২৫ বছরের সোনু পাল। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে মণ্ডপের সরু প্রবেশপথ, পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং বৃষ্টির মধ্যে আচমকা ভিড় বেড়ে যাওয়ার কথা। কী ভাবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

‘আমিও হয়তো বাঁচতাম না’

উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। (Sudipta Banerjee )
উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। (Sudipta Banerjee )

কুমোরটুলির বাসিন্দা সোনু ওই দিন মায়ের সঙ্গে চোরবাগানের পুজো দেখতে গিয়েছিলেন। আচমকাই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে অনেকে মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাইরে অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে একের পর এক পড়ে যান।

সোনু জানিয়েছেন, তিনিও ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। কোনও রকমে নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়ান। তার পর মাকে খুঁজতে গিয়ে দেখেন, তাঁর মা আর বেঁচে নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে সোনু বলেন, চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু দেখেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো তিনিও প্রাণে বাঁচতেন না।

সরু গেট, আলো কম, দীর্ঘ অপেক্ষা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে মণ্ডপের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক দর্শনার্থীর দাবি, প্রবেশপথের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লম্বা লাইন ছিল। তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দ্রুত ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন অনেকে। প্রবেশপথ ছিল যথেষ্ট সরু। ফলে একসঙ্গে অনেক মানুষের ঢোকার চেষ্টা থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের আর এক বয়ানে উঠে এসেছে, মণ্ডপের ভিতরে কাঠের একটি কাঠামো ভেঙে পড়ার কথাও। তবে সেটি কী কারণে ভেঙেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃষ্টি, ভিড়ের চাপ এবং মণ্ডপের ব্যবস্থাপনার মধ্যে কোন বিষয়টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি। ঘটনার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী বাহিনী, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং অন্যান্য দফতরের আধিকারিকেরা থাকবেন বলে খবর। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলে থাকা আধিকারিকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, পুজো উদ্যোক্তাদের মাইকে করা একটি ঘোষণা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

এ দিকে, দুর্ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কার্যকরী সমিতির পদাধিকারীরা ইস্তফা দিয়েছেন। পুজো কমিটির কয়েক জন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। উৎসবের আনন্দ কী ভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতি পেল, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কলকাতা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks