বীরভূমের মহম্মদবাজারে এক বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং কয়েক কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থ বা সোনার পরিমাণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকার বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। রাতভর চলা তল্লাশি বুধবার সকালেও অব্যাহত ছিল। বাড়ির বিভিন্ন ঘর থেকে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গণনার জন্য ঘটনাস্থলে পাঁচটি নোট গোনার মেশিন আনা হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থ বহনের জন্য বড় বড় ট্রাঙ্কও নিয়ে আসা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
শুধু নগদ অর্থই নয়, তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনাও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন সূত্রে সোনার পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। কোথাও প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি, আবার অন্য সূত্রে প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। তবে এই তথ্যগুলির কোনওটিই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মিনার মণ্ডল পেশায় একজন সরকারি বাসচালক বলে স্থানীয়দের দাবি। পাশাপাশি তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত এবং বীরভূমের পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের একাধিক খাদানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার উৎস কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই সম্পদের সঙ্গে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা অবৈধ ব্যবসার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল অতীতে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি পাথর খাদান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া গরুপাচার মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল এবং ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিও তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায়। তবে বর্তমান অভিযানে উদ্ধার হওয়া অর্থ বা সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
{{/usCountry}}বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল অতীতে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি পাথর খাদান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া গরুপাচার মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল এবং ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিও তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায়। তবে বর্তমান অভিযানে উদ্ধার হওয়া অর্থ বা সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
{{/usCountry}}এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ বা জনগণের অর্থ লুট করে যাঁরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। দলের সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ উদ্ধার করে তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত।
মহম্মদবাজারের এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার প্রকৃত পরিমাণ, উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত— তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না। আপাতত গোটা ঘটনাকে ঘিরে জোর তদন্ত চলছে এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।