...
...
Next Story

বীরভূমে নগদ টাকা ও কেজি কেজি সোনা উদ্ধারের দাবি, বাসচালকের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে চাঞ্চল্য

শুধু নগদ অর্থই নয়, তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনাও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন সূত্রে সোনার পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। কোথাও প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি, আবার অন্য সূত্রে প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। তবে এই তথ্যগুলির কোনওটিই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

Published on: Jul 29, 2026, 14:22:25 IST
Advertisement

বীরভূমের মহম্মদবাজারে এক বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং কয়েক কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থ বা সোনার পরিমাণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকার বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ।
মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকার বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকার বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। রাতভর চলা তল্লাশি বুধবার সকালেও অব্যাহত ছিল। বাড়ির বিভিন্ন ঘর থেকে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গণনার জন্য ঘটনাস্থলে পাঁচটি নোট গোনার মেশিন আনা হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থ বহনের জন্য বড় বড় ট্রাঙ্কও নিয়ে আসা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

শুধু নগদ অর্থই নয়, তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনাও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন সূত্রে সোনার পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। কোথাও প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি, আবার অন্য সূত্রে প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। তবে এই তথ্যগুলির কোনওটিই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মিনার মণ্ডল পেশায় একজন সরকারি বাসচালক বলে স্থানীয়দের দাবি। পাশাপাশি তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত এবং বীরভূমের পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের একাধিক খাদানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার উৎস কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই সম্পদের সঙ্গে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা অবৈধ ব্যবসার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ বা জনগণের অর্থ লুট করে যাঁরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। দলের সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ উদ্ধার করে তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত।

মহম্মদবাজারের এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার প্রকৃত পরিমাণ, উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত— তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না। আপাতত গোটা ঘটনাকে ঘিরে জোর তদন্ত চলছে এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe