CM Suvendu Adhikari: একবার নন্দীগ্রাম (Nandigram), অন্যবার ভবানীপুর (Bhawanipore)—পাঁচ বছর অন্তর রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) হারিয়েছেন। সেই সাফল্যকে সামনে রেখে আবারও তাঁকে যে কোনও আসন থেকে লড়াই করার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বারুইপুরের জনসভা থেকে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের গত ছয় মাসের কাজ এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার বিজেপির উদ্যোগে বারুইপুরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভায় গত ছয় মাসে রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে এবং আগামী দিনে কী পরিকল্পনা রয়েছে, তারও খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফলতার পুনর্নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনী লড়াইকে সামনে রেখেই তাঁরা পরীক্ষায় নেমেছিলেন। তাঁর দাবি, ফলতার পুনর্নির্বাচনে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয় এসেছে। পাশাপাশি, হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে এবং রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী ৭০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সামনেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী পুরভোটকে ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি কলকাতাতেও সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনা নিচ্ছে বিজেপি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে অতীতের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টানেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে তাঁর কাছে মমতার পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে ফের ভোটে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'দু’বার হারিয়েছি, ক্ষমতা-সাহস থাকলে ভোটে লড়ুন, আবার হারাব।' দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, ‘আপনি রামলীলা ময়দানে যান, পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু হবে না।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যাবেন কিনা, তা তো শুভেন্দু অধিকারীর কথায় হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াইয়ে বিশ্বাস করেন। তিনি লড়াই করছেন।’
বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার। তিনি জানান, ইডি, সিবিআই থেকে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ, সবাইকে তাঁর বিরুদ্ধে নামানো হয়েছে। কিন্তু তিনি দমবেন না। তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘আমার বিরুদ্ধে ৩০টা কেস করেছে। আরও ৫০টা করুক... ছয়-সাত বছর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে চেষ্টা করেছে। ভাবছেন জেলে রেখে জব্দ করবেন। আমার আপ্তসহায়ককে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রায় আড়াই মাস ধরে হেফাজতে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাকে দমানো যাবে না।’ পাল্টা জবাবে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বড় চোরটা কবে জেলে যাবে? সব কিছুই সময়মতো করতে হয়।’ তার পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের নাম নিয়ে বলেন, ‘অভিষেক, তুমি ভোটে দাঁড়ালেই হারাব। তুমি যত ভোটে জিতেছ, তার থেকে এক ভোট বেশি হলেও হারাব।’ পাল্টা কালীঘাট তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধপরায়ণ, তা সকলে জানে। ক্ষমতা আছে, যা করার করবেন। তার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কয়েকশো তৃণমূল কর্মীকে ওঁরা ক্ষমতায় আসার পরে জেলে পাঠিয়েছেন। তিন, চার, পাঁচ বছর হয়তো লাগবে ফয়সালা হতে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যের মানুষের কথা না ভেবে তিনি মানুষকে জেলে পাঠানোর গল্প করছেন এখন।’
{{/usCountry}}বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার। তিনি জানান, ইডি, সিবিআই থেকে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ, সবাইকে তাঁর বিরুদ্ধে নামানো হয়েছে। কিন্তু তিনি দমবেন না। তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘আমার বিরুদ্ধে ৩০টা কেস করেছে। আরও ৫০টা করুক... ছয়-সাত বছর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে চেষ্টা করেছে। ভাবছেন জেলে রেখে জব্দ করবেন। আমার আপ্তসহায়ককে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রায় আড়াই মাস ধরে হেফাজতে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাকে দমানো যাবে না।’ পাল্টা জবাবে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বড় চোরটা কবে জেলে যাবে? সব কিছুই সময়মতো করতে হয়।’ তার পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের নাম নিয়ে বলেন, ‘অভিষেক, তুমি ভোটে দাঁড়ালেই হারাব। তুমি যত ভোটে জিতেছ, তার থেকে এক ভোট বেশি হলেও হারাব।’ পাল্টা কালীঘাট তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধপরায়ণ, তা সকলে জানে। ক্ষমতা আছে, যা করার করবেন। তার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কয়েকশো তৃণমূল কর্মীকে ওঁরা ক্ষমতায় আসার পরে জেলে পাঠিয়েছেন। তিন, চার, পাঁচ বছর হয়তো লাগবে ফয়সালা হতে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যের মানুষের কথা না ভেবে তিনি মানুষকে জেলে পাঠানোর গল্প করছেন এখন।’
{{/usCountry}}বারুইপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে রাজনৈতিক পালাবদল ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষ এখন বাক্স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এলাকায় আরশোলা, ছারপোকা ও মাকড়ের উৎপাতের কথাও বলেন তিনি। গণতান্ত্রিকভাবে এই ধরনের ‘উপদ্রব’ মোকাবিলার কথা বলে রাজনৈতিক ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।