মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ল। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ’; স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং উস্কানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দুর কথায়, 'সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।'

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য সমাজের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাঁর কথায়, 'আপনাকে এভাবে বেপরোয়া ও লাগামছাড়া মন্তব্য করতে দেব না। এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। কান খুলে কথা শুনে রাখুন।' একইসঙ্গে তিনি জানান, বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি প্রমাণ করে দেব ভারতের আইন ও সংবিধান শেষ হয়ে যায়নি। এই ধরনের মন্তব্য করার আগে ২৫ বার ভাবতে হবে।' পাশাপাশি বিধায়কের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'এটাই আপনার শেষ বক্তব্য বলে ধরে নিন।'
কয়েক দিন আগে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের কাশীপুরে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার—কাউকেই বুঝব না।' পাশাপাশি তিনি মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সতর্কবার্তাও দেন।
সবচেয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় তাঁর আরেকটি মন্তব্য ঘিরে, যেখানে তিনি মুসলিমদের নিয়ে মাঠে নামার কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি দেন। এই বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ ওঠে, তাঁর মন্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে।
{{/usCountry}}সবচেয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় তাঁর আরেকটি মন্তব্য ঘিরে, যেখানে তিনি মুসলিমদের নিয়ে মাঠে নামার কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি দেন। এই বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ ওঠে, তাঁর মন্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে।
{{/usCountry}}এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শাসক শিবিরের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিরোধী মহলও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।