রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর উদ্বোধন করে তিনি সাধারণ মানুষকে সরাসরি শিবিরে উপস্থিত হয়ে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের আবেদন জানান।

পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক তছরূপের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রাপকেরা বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ অযোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর কথায়, 'রাজ্যের ১১০০টি স্থানে জনকল্যাণ শিবির হচ্ছে। সরকারের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা এই শিবিরের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অতীতে সরকারি টাকা যোগ্য প্রাপকদের কাছে পৌঁছত না। মৃত ব্যক্তি, অভারতীয় নাগরিক এমনকি পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন। কোথাও পুরুষদের বিধবা ভাতাও দেওয়া হয়েছে। ডোমকলের একটি ব্লকে সাড়ে তিন হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই আগের সরকারের দুর্নীতি সামনে আসছে।'
কেন প্রকল্পের সুবিধা পেতে নতুন করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তারও ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল উপভোক্তা তালিকা তৈরি করা। তাঁর বক্তব্য, 'আমরা চাই না কোনও অনুপ্রবেশকারী বা অভারতীয় ব্যক্তি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান। প্রকৃত মানুষ যাতে সরাসরি সুবিধা পান, সেটাই নিশ্চিত করতে চাই। কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর জায়গা থাকবে না। মানুষ সহযোগিতা করলে সরকারও তাঁদের পাশে থাকবে।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্তির সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি। সমীক্ষা বা তালিকা তৈরিতে কোনও অনিয়ম হলে সরকারের টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
{{/usCountry}}ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্তির সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি। সমীক্ষা বা তালিকা তৈরিতে কোনও অনিয়ম হলে সরকারের টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
{{/usCountry}}এছাড়া আগামী দিনে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামে-শহরে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, জুলাই মাস থেকে আয়ুষ্মান কার্ড প্রদান শুরু হবে। পাশাপাশি ২২ জুনের বাজেটে একাধিক নতুন ঘোষণা ও চমক থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ব্যবসা ও স্বনির্ভরতার প্রসারে ঋণ সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।