সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কন্টেনারে ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কৃষক, চা-বাগানের শ্রমিক, হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির স্বার্থে এবার থেকে নির্দিষ্ট শর্তে কন্টেনারে জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি কন্টেনারে ডিজেল সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় বহু কৃষক, হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি সমস্যার মুখে পড়ছিল। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন কৃষকরা। সেচের পাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার-সহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র চালাতে অনেক সময় পেট্রল পাম্প থেকে কন্টেনারে ডিজেল নিয়ে যেতে হয়। একইভাবে চা-বাগান এলাকাতেও দূরবর্তী স্থানে থাকা যন্ত্রপাতি চালাতে কন্টেনারে জ্বালানি বহন করা প্রয়োজন হয়। হাসপাতালগুলির জেনারেটর এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরাও। কলকাতার এক পেট্রল পাম্প মালিক বলেন, সরকার যে নিয়ম নির্ধারণ করবে, তা মেনেই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলিতে এই ছাড় বাস্তব সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলেও তাঁর মত।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় দেশে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই কন্টেনারে পেট্রল-ডিজেল মজুত করতে শুরু করেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন কন্টেনারে জ্বালানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। কারণ, অনুমোদনহীন বা সাধারণ প্লাস্টিকের পাত্রে পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইনত দণ্ডনীয়।
{{/usCountry}}সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় দেশে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই কন্টেনারে পেট্রল-ডিজেল মজুত করতে শুরু করেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন কন্টেনারে জ্বালানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। কারণ, অনুমোদনহীন বা সাধারণ প্লাস্টিকের পাত্রে পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইনত দণ্ডনীয়।
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রল ও ডিজেল শুধুমাত্র নির্ধারিত মানের স্টিল বা শক্ত প্লাস্টিকের অনুমোদিত কন্টেনারেই বহন করা উচিত। দাহ্য পদার্থ হওয়ায় অসতর্কভাবে সংরক্ষণ করলে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ছাড় সর্বসাধারণের জন্য নয়। শুধুমাত্র কৃষিকাজ, চা-বাগান, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জরুরি পরিষেবা এবং অনুরূপ অত্যাবশ্যকীয় কাজে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কন্টেনারে নেওয়া যাবে। ফলে একদিকে যেমন জরুরি পরিষেবার কাজে বিঘ্ন কমবে, অন্যদিকে জ্বালানির অপ্রয়োজনীয় মজুত রোধেও প্রশাসনিক নজরদারি বজায় থাকবে।