মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোটের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও সেই পথে আপাতত হাঁটল না কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে দলের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়।
নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান

নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মী এবং ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা মিলন প্রধান। নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে কংগ্রেস। উপনির্বাচনের লড়াইয়ে তৃণমূল, বিজেপি কিংবা বামেদের আগেই এই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করল হাত শিবির।
রেজিনগরে ভরসা কাফির উপর
রেজিনগর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফিকে। তিনি বেলডাঙা এলাকা থেকে জেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতার দায়িত্বেও রয়েছেন। সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতির উপর ভরসা করেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুই কংগ্রেস প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেবেন। ফলে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে জল্পনার পাশাপাশি দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার হচ্ছে।
কীভাবে এল উপনির্বাচনের পরিস্থিতি?
দুই কেন্দ্রেই আলাদা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং দুই জায়গাতেই জয় পেয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পরে একটি আসন ছাড়তে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই কারণেই সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}দুই কেন্দ্রেই আলাদা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং দুই জায়গাতেই জয় পেয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পরে একটি আসন ছাড়তে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই কারণেই সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে রেজিনগর কেন্দ্রের সমীকরণও আলাদা। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর দুটি আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে দুটিতেই জয় পান। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন। এবার রেজিনগরে তাঁর ছেলে প্রার্থী হচ্ছেন। সেই লড়াইয়ে কংগ্রেসের হয়ে নামলেন আবদুল্লাহিল কাফি।
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা
অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এই দুই উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে থাকবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে প্রার্থী ঘোষণা থেকে প্রতীক-জট—সব মিলিয়ে দুই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কংগ্রেসের এই আগাম প্রার্থী ঘোষণার ফলে জোটের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।