নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হতে চলেছে। সোমবার সকালে তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মিলনের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি মামলায় যাতে তাঁকে গ্রেফতার না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর বিষয়টির শুনানি হওয়ার কথা।

গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া পুরনো মামলাগুলির জেরেই এই গ্রেফতার। শনিবার তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে জেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলা রয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, অনধিকার প্রবেশ এবং অস্ত্র আইনের মতো ধারাও রয়েছে। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা চারটি জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই পরোয়ানা কার্যকর করা যায়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
মিলনের আইনজীবী অবশ্য এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই একটি মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ওই মামলাগুলিতে আদালতের কাছ থেকে রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মিলন কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন—এই বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
মিলনকে গ্রেফতারের আগে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আসে। কালীঘাটের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুক্রবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তাঁর শিবির নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে সময়ের এই মিল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}মিলনকে গ্রেফতারের আগে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আসে। কালীঘাটের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুক্রবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তাঁর শিবির নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে সময়ের এই মিল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}মিলনের গ্রেফতারির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণার পরই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশের বক্তব্য আলাদা। তাদের দাবি, এই গ্রেফতারি বহু পুরনো মামলায় আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করার অংশ। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর। ভোটের আগে প্রার্থী জেলবন্দি থাকায় কংগ্রেসের প্রচার নিয়েও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিলন আপাতত হেফাজতে থাকায় তাঁর হয়ে প্রচারে দলের অন্য নেতারা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাঠে নামছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের দিকে। মঙ্গলবারের শুনানিতে মিলন প্রধানের গ্রেফতারি এবং আরও মামলায় রক্ষাকবচের আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই সিদ্ধান্ত নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থীর পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।