ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যেই ঘুঁটি সাজিয়ে ফেলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এতটুকু ছাড় দিচ্ছে না প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও। বামেরাও জোরকদমে নিজেদের প্রার্থীদের প্রচারে নামিয়ে দিয়েছে। জেলায় জেলায় সব পক্ষই করছে জনসংযোগ। এমনকী মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তৈরি হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও প্রার্থী ঘোষণা করে মিম-এর সঙ্গে জোটের ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে এতদিন পুরো নিশ্চুপ ছিল প্রদেশ কংগ্রেস। প্রশ্ন উঠছিল হাত শিবিরের পরিকল্পনা নিয়ে। অবশেষে 'শীতঘুম' কাটিয়ে গা ঝাড়া দিল কেন্দ্রের প্রধান বিরোধী দল।

শনিবার নয়া দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকের পর জানিয়ে দেওয়া হল, বাংলার ২৮৬টি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ৮টি আসনে প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। অধীররঞ্জন চৌধুরীর মতো বর্ষীয়ান নেতারা এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলায় কংগ্রেসের বাংলায় এআইসিসি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর। ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল কংগ্রেস। আবার ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেস হাত মিলিয়েছিল। এবার অবশ্য আগেই কংগ্রেস জানিয়ে দেয়, তারা ২৯৪টি আসনে একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কিন্তু, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করায় নানা জল্পনা বাড়তে থাকে। যেখানে অন্য দলগুলির প্রার্থীরা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন, সেখানে কংগ্রেস তালিকা ঘোষণা না করায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অবশেষে শনিবার বাংলায় দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে নয়া দিল্লিতে বৈঠকে বসে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠক শেষে অধীর ও শুভঙ্করকে পাশে নিয়ে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা গুলাম আহমেদ মীর সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা বাংলায় ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার জন্য ২৫০০ হাজার আবেদন আমরা পেয়েছি। এদিন সিইসি-র বৈঠকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ৮টি আসন বাদে বাকি আসনগুলিতে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ওই আসনগুলি নিয়ে প্রার্থীদের নাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।' তিনি জানান, শনিবার গভীর রাতে বা রবিবার সকালে ওই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, পুরো শক্তি নিয়ে তাঁরা বাংলায় লড়াই করবেন বলে গুলাম আহমেদ মীর জানান। এর আগে মনে করা হচ্ছিল, শনিবার কর্মসমিতির বৈঠক শেষেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে হাত শিবির। কিন্তু তেমনটা করা হল না।
{{/usCountry}}বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠক শেষে অধীর ও শুভঙ্করকে পাশে নিয়ে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা গুলাম আহমেদ মীর সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা বাংলায় ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার জন্য ২৫০০ হাজার আবেদন আমরা পেয়েছি। এদিন সিইসি-র বৈঠকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ৮টি আসন বাদে বাকি আসনগুলিতে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ওই আসনগুলি নিয়ে প্রার্থীদের নাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।' তিনি জানান, শনিবার গভীর রাতে বা রবিবার সকালে ওই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, পুরো শক্তি নিয়ে তাঁরা বাংলায় লড়াই করবেন বলে গুলাম আহমেদ মীর জানান। এর আগে মনে করা হচ্ছিল, শনিবার কর্মসমিতির বৈঠক শেষেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে হাত শিবির। কিন্তু তেমনটা করা হল না।
{{/usCountry}}তবে অধীর চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট কী ভোট ময়দানে নামবেন? এই প্রশ্নের জবাবে মীর জানান, রাজ্যে কংগ্রেসের যত হেভিওয়েট আছেন, তাঁরা সকলেই এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। সুতরাং আশা করা যায়, অধীর চৌধুরী-সহ আরও একাধিক হেভিওয়েটের নাম প্রার্থী তালিকায় থাকবে। অধীর চৌধুরী এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা ছড়িয়েছে। এমনকী, বহরমপুরে তাঁর নামে দেওয়াল লিখনও শুরু করে দিয়েছেন কংগ্রেস কর্মীরা। বলে রাখা ভালো, প্রায় ২০ বছর পর রাজ্যে ২৯৪ আসনে একক শক্তিতে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেস। দিল্লিতে একযোগে সেই ঘোষণায় খুশি হয়েছিলেন তৃণমূল স্তরের বহু সাধারণ কংগ্রেস কর্মীই। প্রদেশের তরফে রাজ্যজুড়ে কর্মীদের দেওয়াল দখল, রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়। তাতেও উৎসাহ বাড়ে কর্মীদের। কিন্তু সেই ‘খুশি’ বা ‘উৎসাহ’ খানিক ফিকে হয়েছে এ পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা করতে না পারায়। কংগ্রেস কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর হল, সব ঠিক থাকলে রবিবার রাতে প্রথম তালিকা প্রকাশ্যে আসবে।