...
...
Next Story

Bageshwar Row Update: বাগেশ্বরের ছবি পোড়ানোয় কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার, শুভেন্দুর নির্দেশের পরই পদক্ষেপ

বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখে বিজেপির একাধিক নেতাও। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির উপর বাইরের কোনও ব্যক্তির নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য বাংলার সংস্কৃতির অংশ বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির কয়েকজন নেতা।

Published on: Sep 11, 2026, 11:39:28 IST
Advertisement

বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তীব্র হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ছবি পোড়ানোয় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বাগেশ্বরের মন্তব্য থেকেই বিতর্ক

Kolkata: Congress activists stage a protest outside Bhowanipur Police Station against Bageshwar Dham chief Dhirendra Krishna Shastri for his alleged remarks against the sentiment of Bengal for the upcoming Durga Puja festival, in Kolkata, West Bengal, Tuesday. (PTI Photo/Swapan Mahapatra)(PTI09_08_2026_000125B) (PTI)
Kolkata: Congress activists stage a protest outside Bhowanipur Police Station against Bageshwar Dham chief Dhirendra Krishna Shastri for his alleged remarks against the sentiment of Bengal for the upcoming Durga Puja festival, in Kolkata, West Bengal, Tuesday. (PTI Photo/Swapan Mahapatra)(PTI09_08_2026_000125B) (PTI)

সম্প্রতি বাংলায় এসে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা। লিলুয়ার একটি অনুষ্ঠানে দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই সময় আমিষ খাওয়া তাঁর পছন্দ নয়। এমনকি যাঁরা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ।

বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখে বিজেপির একাধিক নেতাও। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির উপর বাইরের কোনও ব্যক্তির নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য বাংলার সংস্কৃতির অংশ বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির কয়েকজন নেতা।

ভবানীপুরে ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ

এই আবহেই ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি নিয়ে প্রতিবাদে নামে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভের সময় তাঁর ছবি পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরেই বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক আকার নেয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অতনু দাসকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় দেওয়া নির্দেশের পরেই কি পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হল?

সরকারের অবস্থান, বিক্ষোভ করার অধিকার থাকলেও কোনও ব্যক্তির ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ করা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের বক্তব্য, বাগেশ্বর বাবা প্রকাশ্যে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। সেই প্রতিবাদ করার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

‘আগেও কুশপুতুল পুড়িয়েছি’

গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার কুশপুতুল পোড়ানো হলেও সেগুলির ক্ষেত্রে মামলা করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে ‘পাখণ্ডী’ বলে অপমান করেছেন। অথচ সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কংগ্রেস নেতাকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

প্রদীপের বক্তব্য, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটলবিহারী বাজপেয়ী থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুলও অতীতে পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু তখন এই ধরনের মামলার নজির তাঁরা দেখেননি। ছবি পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতারির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, বাঙালিকে অসম্মান করা হলে প্রতিবাদ করার অধিকার তাঁদের রয়েছে।

রাজনীতি আরও উত্তপ্ত

একদিকে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, অন্যদিকে তাঁর ছবি পোড়ানো এবং তার জেরে কংগ্রেস নেতার গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এখন প্রশ্ন, অতনু দাসের বিরুদ্ধে ঠিক কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তে আর কাদের নাম সামনে আসে। একই সঙ্গে বাগেশ্বর বাবার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিবাদ এবং সরকারের কঠোর অবস্থান—এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয় কি না, সেদিকেই নজর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks