নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি কংগ্রেস। দুই দলই শেষ পর্যন্ত পৃথক ভাবে প্রার্থী দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই দুই কেন্দ্রের জন্য ভোট হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী একই সঙ্গে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচিত হন। পরে একটি আসন ছাড়ার নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
অন্য দিকে, রেজিনগরেও বিধায়ক পদ খালি হওয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই নতুন করে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রথম থেকেই জোটের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ছিল। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
আর একটি প্রতিবেদনে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্যের দাবি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তৃণমূল নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়ে বিনিময়ে রেজিনগর আসন চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফিকে প্রার্থী করেছে। অন্য দিকে, কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই দুই দলের প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন। এই নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, এখন দু’টি আসনে আগে আমাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক তৃণমূল। এখান থেকে শুরু হোক। আরও অনেক লড়াই হবে আগামিদিনে, তখন দুই দলের জোটের বিষয় নিয়ে দেখা যাবে। অপরদিকে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি কংগ্রেস কেবল তাদের স্থানীয় নেতাদের কথাতেই চলে, তবে সংসদেও তাদের সঙ্গে একযোগে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই।
এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামে বিজেপিও প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শাখরাভ সরকার। ফলে দুই কেন্দ্রেই একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে তৃণমূল ও কংগ্রেসের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর দুই দলই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর নির্ভর করে ভোটে নামছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও এই উপনির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠীও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামে বিজেপিও প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শাখরাভ সরকার। ফলে দুই কেন্দ্রেই একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে তৃণমূল ও কংগ্রেসের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর দুই দলই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর নির্ভর করে ভোটে নামছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও এই উপনির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠীও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
{{/usCountry}}তাই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন শুধু কয়েকটি আসনের লড়াই নয়, রাজ্যে তৃণমূল, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভোটের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও দলের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।