Cooch Behar Twin Murder: কোচবিহারের বক্সিরহাটে একই পরিবারের এক বৃদ্ধ দম্পতির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে রামপুর এলাকার বাড়ির শোওয়ার ঘর থেকে উদ্ধার হয় ৭০ বছর বয়সী সুনীল বিশ্বাসের রক্তাক্ত মৃতদেহ। তাঁর স্ত্রী জানকী বিশ্বাসের বয়স প্রায় ৪৫ বছর। প্রথমে বাড়ির ভিতর থেকে শুধু সুনীলের দেহ উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। পরে বাড়ির অদূরে একটি ঝোপের মধ্যে জানকীরও রক্তাক্ত দেহ মেলে।

পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সুনীল বিশ্বাসের মাথায় ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দেহ পড়েছিল শোওয়ার ঘরে। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পর খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে বক্সিরহাট থানার জোড়াই ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে।
তবে ঘটনার পর থেকেই সুনীলের স্ত্রী জানকীর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে স্বামীকে খুনের পর স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক ভাবে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজ চালায়। বেশ কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে একটি ঝোপের মধ্যে জানকীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জানকীর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফলে দু’জনকেই খুন করা হয়েছে কি না, নাকি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত খুনে ব্যবহৃত কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ফলে দুই দেহে পাওয়া আঘাত একই অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ, এখন সেটাই তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, সুনীল বিশ্বাসের প্রথম পক্ষের স্ত্রী এবং সন্তানরা তাঁর বাড়ির কাছেই থাকেন। বেশ কয়েক বছর আগে জানকীকে বিয়ে করেন সুনীল। এই পরিস্থিতিতে পারিবারিক কোনও বিবাদ বা সম্পত্তি নিয়ে কোনও বিরোধ চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
{{/usCountry}}এই জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ, এখন সেটাই তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, সুনীল বিশ্বাসের প্রথম পক্ষের স্ত্রী এবং সন্তানরা তাঁর বাড়ির কাছেই থাকেন। বেশ কয়েক বছর আগে জানকীকে বিয়ে করেন সুনীল। এই পরিস্থিতিতে পারিবারিক কোনও বিবাদ বা সম্পত্তি নিয়ে কোনও বিরোধ চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
{{/usCountry}}তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে আরও একাধিক সম্ভাব্য কারণ। দাম্পত্য সম্পর্কের কোনও সমস্যা ছিল কি না, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনও বিরোধ ছিল কি না অথবা সম্পত্তিগত কোনও পুরনো বিবাদ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক কোনও গতিবিধি হয়েছিল কি না, ঘটনার আগে বা পরে কেউ সেখানে এসেছিল কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে, দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আঘাতের ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কী কারণে এই জোড়া মৃত্যু, এর পিছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত কি না এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র কোথায়—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন জোর তদন্ত চালাচ্ছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।