দেড় মাসেরও বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।

লাহেক আলির মা গুরুতর অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা আদালতে তুলে ধরেই লাহেকের আইনজীবীরা অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেছিলেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, মায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এই পরিস্থিতিতে ছেলের উপস্থিতি প্রয়োজন। তাই মানবিক কারণে লাহেক আলিকে সাময়িক জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু শর্তও দিয়েছেন বিচারপতি।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী জামিনে থাকাকালীন লাহেক আলি নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ তাঁকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই থাকতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে বারুইপুর থানার পুলিশ তাঁকে ডাকলে হাজির হতে হবে। তদন্তে কোনওভাবে সহযোগিতার অভাব করা যাবে না বলেও আদালতের নির্দেশ রয়েছে।
ফলে আপাতত সীমিত সময়ের জন্য জেলের বাইরে থাকার সুযোগ পেলেন সিপিএম নেতা। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকবে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
লাহেক আলির জামিনের খবর সামনে আসতেই সিপিএমের তরফে প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি ‘লাল সেলাম’ লিখেছেন।
{{/usCountry}}লাহেক আলির জামিনের খবর সামনে আসতেই সিপিএমের তরফে প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি ‘লাল সেলাম’ লিখেছেন।
{{/usCountry}}লাহেক আলি বারুইপুরের একটি বহুল আলোচিত মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। একটি নাবালিকাকে নির্যাতন এবং খুনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়।
অভিযোগ ওঠে, ওই গণপিটুনির ঘটনায় লাহেক আলি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে গত ১২ জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর থেকে জেল হেফাজতেই ছিলেন লাহেক। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর এবার অসুস্থ মাকে দেখার সুযোগ পেলেন তিনি।
তবে এই জামিন সম্পূর্ণ মুক্তি নয়। এটি শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী জামিন। আদালত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুবিধা দিয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত চলবে এবং পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে থানায় ডেকে পাঠাতে পারবে।
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে। একদিকে নাবালিকার মৃত্যু এবং তার পরের অশান্তি। অন্যদিকে গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ। এই সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি শুরু থেকেই চর্চায়।
এখন নজর থাকবে ১০ সেপ্টেম্বরের পর আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয় তার দিকে। একই সঙ্গে লাহেক আলির মায়ের শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর রয়েছে। অন্তর্বর্তী জামিনের এই সময়ে তিনি মায়ের পাশে থাকতে পারবেন বলেই আশা তাঁর পরিবার ও দলের।