...
...
Next Story

CPIM on KMC Ward Delimitation: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে সাত দফা আপত্তি সিপিএমের, সময়সীমা বাড়ানোর দাবি

সিপিএমের অভিযোগ, নতুন ওয়ার্ড তৈরির খসড়ায় উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে থাকা রাস্তার নামগুলি অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যেসব রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে, সেগুলির অনেকগুলিই প্রস্তাবিত ওয়ার্ডের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করছে না।

Published on: Aug 26, 2026, 10:05:31 IST
Advertisement

কলকাতা পুরসভার আসন বিন্যাসের খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ হতেই আপত্তি জানাল সিপিএম। মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে ২০৯টি ওয়ার্ডের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই প্রস্তাব সামনে আসার পরই পুর কমিশনারকে চিঠি দিয়ে মোট সাত দফা আপত্তি জানিয়েছে বাম দলটি। ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণে রাস্তার নাম সঠিকভাবে উল্লেখ না করা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলিকে এখনও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করা—একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম।

রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকসভা ভোটের আগে থেকেই এই রিড্রেসাল সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করেছিল কলকাতা পুরসভা। তবে কাজ শেষ হয়ে গেলেও সেই পরিষেবা চালু করা যায়নি আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকার জন্যে। এই আবহে ভোট মিটতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠে পুরসভা। এতে করে পুরসভার পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।  
রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকসভা ভোটের আগে থেকেই এই রিড্রেসাল সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করেছিল কলকাতা পুরসভা। তবে কাজ শেষ হয়ে গেলেও সেই পরিষেবা চালু করা যায়নি আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকার জন্যে। এই আবহে ভোট মিটতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠে পুরসভা। এতে করে পুরসভার পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।  

সিপিএমের অভিযোগ, নতুন ওয়ার্ড তৈরির খসড়ায় উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে থাকা রাস্তার নামগুলি অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যেসব রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে, সেগুলির অনেকগুলিই প্রস্তাবিত ওয়ার্ডের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করছে না। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

শুধু সীমানা নির্ধারণ নয়, কয়েকটি ওয়ার্ডের সংলগ্নতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। কিছু ওয়ার্ডের আকৃতি তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক এবং নিয়মিত নয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, একটি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক গঠন যতটা সম্ভব স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নাহলে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাজ এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বিকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, সেটিকেও অত্যন্ত কম বলে দাবি করেছে সিপিএম। তাদের অভিযোগ, এত অল্প সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন বা অন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষে খসড়া যাচাই করে বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা কার্যত অসম্ভব। এর ফলে জনমত গ্রহণের গোটা প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। দলের দাবি, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অথচ এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছে তারা।

গণশুনানি নিয়েও আপত্তি রয়েছে সিপিএমের। তাদের বক্তব্য, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মতামত শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত গণশুনানি সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। ফলে গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

এছাড়াও নতুন ওয়ার্ডের সীমানা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট ধারণা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মানচিত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। খসড়া প্রস্তাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভৌগোলিক মানচিত্র কিংবা বর্তমান বিধানসভা এলাকার বুথ নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন অংশ কোন ওয়ার্ডে পড়ছে, তা সঠিকভাবে বুঝতে সমস্যায় পড়বেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলি।

সব মিলিয়ে, কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডের খসড়া আসন বিন্যাস প্রকাশের পরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিপিএম দ্রুত সংশোধনী এনে আরও সময় দেওয়া, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক এবং গণশুনানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে। এখন পুর প্রশাসন এই আপত্তিগুলির কী জবাব দেয় এবং চূড়ান্ত ওয়ার্ড বিন্যাসে কোনও পরিবর্তন আনা হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe