ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ও সক্রিয়তা বাড়াতে তৎপরতা শুরু করেছে আলিমুদ্দিন। কারণ, চব্বিশের লোকসভা ভোটে হতাশাজনক ফলাফলের পর সিপিএমের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টই বলেছিল দলের উল্লেখযোগ্য অংশের কর্মী-সমর্থক দায়িত্ব পালন করেননি, অনেকে ছিলেন নিষ্ক্রিয়, কেউ কেউ আবার ভোটের লড়াইকে শুধুই যান্ত্রিকভাবে সামলেছেন। পার্টি দফতরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে তাঁরা মাঠে-ঘাটে প্রচারের কাজ করেননি। সেই অভিজ্ঞতার পর আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না বঙ্গ সিপিএম। এবার ছাব্বিশের ভোটে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে যত বড় নেতাই হোন, কড়া ব্যবস্থা নিতেই প্রস্তুত দল।

আরও পড়ুন: জামিনে মুক্তি পেতেই হামলা তামন্না খুনে অভিযুক্তের আত্মীয়দের ওপর, কাঠগড়ায় CPM
সূত্রের খবর, নির্বাচনের দুই বছর আগেই আলিমুদ্দিনের তরফে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল যে, এ বার ভোটে নিষ্ক্রিয়তা চলবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে বহু কর্মী এখনও আগের মতোই অনুৎসাহিত, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চিন্তায় ফেলছে। তাই ফের নির্দেশ গেছে পার্টির যে স্তরের সদস্যই হোন না কেন, নির্বাচনী সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। পার্টি দপ্তরে বসে নয়, কর্মীদের এবার এলাকায় নেমে মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে জনসংযোগ বাড়াতেই হবে।
আরও পড়ুন: Kolkata Earthquake Today: কলকাতাসহ এপার বাংলা, উত্তরপূর্ব ভারত, বাংলাদেশে অনুভূত হল ভূমিকম্প
এর মধ্যেই রাজ্যে সংগঠনের শিরা-উপশিরায় নড়াচড়া আনতে ২৯ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুরু হচ্ছে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। শাসক দলের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুকে সামনে রেখে বুথস্তরে ঢেউ তুলতেই এই কর্মসূচি। কিন্তু এখানেও শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত নয়, পার্টির নিচুতলার কর্মীরা আদৌ কতটা সক্রিয়ভাবে নিজেকে নিয়োজিত করবেন। তাই এই যাত্রায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক সদস্যদের জন্য কোটাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই রাজ্যে সংগঠনের শিরা-উপশিরায় নড়াচড়া আনতে ২৯ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুরু হচ্ছে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। শাসক দলের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুকে সামনে রেখে বুথস্তরে ঢেউ তুলতেই এই কর্মসূচি। কিন্তু এখানেও শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত নয়, পার্টির নিচুতলার কর্মীরা আদৌ কতটা সক্রিয়ভাবে নিজেকে নিয়োজিত করবেন। তাই এই যাত্রায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক সদস্যদের জন্য কোটাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এই অবস্থায় আরও একটি উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় পার্টি সদস্যদের ন্যূনতম পাঁচটি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও বড়সড় খামতি রয়েছে। দলীয় বৈঠকে নিয়মিত উপস্থিতি, মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ, গণসংগঠনের কাজ করা, নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং পার্টির পত্র-পত্রিকা পড়া এই পাঁচটি কাজই সদস্য হওয়ার মূল শর্ত। কিন্তু রিপোর্ট বলছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য এখনও এই কাজগুলি নিয়মিত করেন না। এমন পরিস্থিতিতে ছাব্বিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে সিপিএম মনে করছে, সদস্যদের বিপ্লবী চরিত্র ও সক্রিয়তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি থেকেই গিয়েছে।