First Aid Tips: আকস্মিক দুর্ঘটনায় বা শারীরিক অসুস্থতায় পেশাদার চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগের কয়েকটি মুহূর্তই একজন মানুষের বাঁচা-মরা নির্ধারণ করে দেয়। সেই সংকটময় মুহূর্তে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণের কৌশল শেখাতেই এক বিশেষ উদ্যোগ নিল কলকাতার সায়েন্স সিটি। সায়েন্স সিটির তরফে সেই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 'বেসিক লাইফ-সেভিং টেকনিকস' কর্মশালা পরিচালনা করেন টালিগঞ্জ সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্সের অনারারি সেক্রেটারি অমিতাভ বসু। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০টি বিশিষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা এই ইন্টারেক্টিভ সেশনে অংশগ্রহণ করেন।
CPR ও ABC মডেল

১) A (Airway): শ্বাসনালি উন্মুক্ত রাখা।
২) B (Breathing): শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকমতো চলছে কি না তা পরীক্ষা করা।
৩) C (Circulation): রক্ত সঞ্চালন ও স্পন্দন (Pulse) ঠিক রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে CPR ডামির সাহায্য নেওয়া হয়। মানবদেহের পালস পয়েন্ট চিহ্নিত করা, হৃদস্পন্দন বোঝা এবং সঠিক ছন্দে বুকে চাপ দিয়ে কীভাবে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR) চালনা করতে হয়, তা প্র্যাক্টিক্যালি দেখানো হয়।
এছাড়া আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED) যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। সময়মতো সিপিআর প্রদান এবং এইডি (AED) যন্ত্র ব্যবহার কীভাবে একটি মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তা তুলে ধরা হয় ‘চেইন অফ সারভাইভাল’ ধারণার মাধ্যমে।
সাপের কামড়, পোড়া আঘাত ও শ্বাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ
১) শ্বাসনালিতে খাবার বা কিছু আটকে যাওয়া (Choking): দমবন্ধ হওয়া পরিস্থিতিতে করণীয় প্রাথমিক কৌশল।
২) পোড়া বা অগ্নিদগ্ধ রোগীর ব্যবস্থাপনা (Burn Management): ত্বকের প্রাথমিক যত্ন এবং ক্ষতের ধরন অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা।
{{/usCountry}}২) পোড়া বা অগ্নিদগ্ধ রোগীর ব্যবস্থাপনা (Burn Management): ত্বকের প্রাথমিক যত্ন এবং ক্ষতের ধরন অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা।
{{/usCountry}}৩) সাপের কামড়: বিষাক্ত ও বিষহীন ভারতীয় সাপের প্রজাতি চেনা এবং কামড়ানোর পর আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে নিরাপদ রাখার সঠিক নিয়ম।
৪) জরুরি ট্রায়াজ (Triage System): অনেক রোগীর মধ্যে কাকে আগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া প্রয়োজন, তা দ্রুত নির্ধারণ করার প্রাথমিক পাঠ।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে টালিগঞ্জ সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্সের অনারারি সেক্রেটারি বলেন, 'অ্যাম্বুলেন্স আসার আগের কয়েক মিনিটই যে কোনও মেডিকেল এমার্জেন্সিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী কৌশলগুলি কোনও জটিল চিকিৎসা রহস্য নয়—এগুলো সাধারণ জীবনদক্ষতা, যা যে কেউ শিখতে পারে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের এই আত্মবিশ্বাস থাকা উচিত যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তারা সঠিকভাবে এগিয়ে আসতে পারে। যখন অল্প বয়সি ছেলেমেয়েরা শ্বাসনালী পরিষ্কার করা, বুকে সঠিক প্রক্রিয়ায় চাপ দেওয়া কিংবা রক্তপাত বন্ধ করা শেখে, তখন আতঙ্ক দূরে গিয়ে তৈরি হয় একটি সচেতন সমাজ।'