ডিএ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বাঁকুড়ার স্কুলডাঙ্গা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। এই হামলায় জখম সরকারি কর্মীর নাম অরিন্দম মণ্ডল। তিনি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম নেতা। এই ঘটনাটি ঘটে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের সামনেই। এই হামলার পরে অরিন্দমকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে। অভিযোগ, প্রায় ৪০ জন দুষ্কৃতী হামলা চালিয়েছিল হকি স্টিক এবং লাঠি নিয়ে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙ্গা এলাকায় এবিটিএ-র হলঘরে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের একটি বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকের পরে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের কয়েকজন ছিলেন স্থানীয় স্কুলডাঙ্গা মাজারের কাছে। তখন নাকি তৃণমূলের ছাত্র নেতা সুরজ বক্সের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় তাদের ওপর। যদিও ঘটনার সঙ্গে যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ভাস্কর ঘোষের অভিযোগ, যে লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল, তার কয়েকটিতের ডগায় তৃণমূলের পতাকা লাগানো ছিল।
এই হামলা নিয়ে ভাস্কর ঘোষ বলেন, 'আমি শুনলাম সুরজ বক্স নামে একজনের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। বাঁশ-লাঠি-হকি স্টিক নিয়ে হামলা করেছে। ওর মধ্যে তৃণমূলের ফ্ল্য়াগ দেওয়া লাঠিও ছিল। একেবারে খুনের চেষ্টার মতো ঘটনা। পুরো আক্রমণই হয়েছে মাথা, মুখ লক্ষ্য করে। ওদের উদ্দেশ্য ছিল অরিন্দমকে প্রাণে মারার। ওদের লক্ষ্যে আমিও ছিলাম।' এদিকে ঘটনায় আক্রান্ত অরিন্দম বলেন, 'মিটিং শেষ হওয়ার পরে, আমরা কিছু লোককে খাওয়া দাওয়া করাতে নিয়ে যাই। ওঁরা যে গাড়িটা নিয়ে এসেছিল, সেই গাড়িটা ওখানে দাঁড়িয়েছিল। আমরা ঠিক করি, ওখানে কিছু কেনাকাটা করব। কিন্তু গাড়ি দাঁড় করানো নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়। আমরা বলি, গাড়িটা-তো বেরিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। আমি বাইকের ওপরে ছিলাম, আমার গায়ে হাত তোলা হয়। ওরা যেন তৈরিই ছিল। মুহূর্তের মধ্যে লাঠি, হকি স্টিক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হেলমেট, চশমা খুলে গেল আমার। দেখতে পাচ্ছিলাম না। সুরজ বক্স ছিল। উল্টোদিকে একটা পার্টি অফিস ছিল। জানি না যারা মারছিল তারা কোনও দলের নাকি দুষ্কৃতী। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলেই মনে হয়।'