...
...
Next Story

Darjeeling Landslide: মিরিকে পাহাড় ধসে রংভং নদীর পথ বন্ধ, তৈরি বিশাল কৃত্রিম হ্রদ! হড়পা বানের শঙ্কা

এবার দার্জিলিং পাহাড়ে ভূমিধসের জেরে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। মিরিকের মিরিক বস্তি-২ এলাকায় রংভং নদীতে পাহাড়ের বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে পড়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এর ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে বিশাল কৃত্রিম জলাধারের মতো পরিস্থিতি।

Published on: Sep 6, 2026, 21:38:34 IST
Advertisement

সিকিমের পর এবার দার্জিলিং পাহাড়ে ভূমিধসের জেরে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। মিরিকের মিরিক বস্তি-২ এলাকায় রংভং নদীতে পাহাড়ের বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে পড়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এর ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে বিশাল কৃত্রিম জলাধারের মতো পরিস্থিতি। হঠাৎ এই জলাধারের পাড় ভেঙে গেলে নীচের দিকে ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার থেকে মিরিক বস্তি-২-এর রংভং খোলা এলাকায় ধস নামতে শুরু করে। (প্রতীকী ছবি) (PTI)
শনিবার থেকে মিরিক বস্তি-২-এর রংভং খোলা এলাকায় ধস নামতে শুরু করে। (প্রতীকী ছবি) (PTI)

শনিবার থেকে মিরিক বস্তি-২-এর রংভং খোলা এলাকায় ধস নামতে শুরু করে। পাহাড়ের ঢাল থেকে একের পর এক মাটি ও পাথর নদীতে পড়ায় রংভংয়ের প্রবাহে বাধা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে জমতে থাকে জল। প্রশাসনের আশঙ্কা, নতুন করে আরও বড় ধস নামলে তৈরি হওয়া এই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে বিপুল জলরাশি নীচের দিকে ধেয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মিরিকের পাহিলাগাঁও স্কুল, দারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের লাবারবোটার লোয়ার পালজারগাঁও এলাকায়। এখানে প্রায় ৩৩টি পরিবার পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পরিবারগুলিকে ইতিমধ্যেই স্থানীয় লেপচা কমিউনিটি হলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নদীর জল হঠাৎ বেড়ে গেলে যাতে কোনও প্রাণহানি না ঘটে, সে কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রবিবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমাশাসক, বিডিও-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। যেকোনও ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে আগাম প্রস্তুতি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কৃত্রিম হ্রদে জমে থাকা বিপুল জল কীভাবে নিরাপদে বার করে দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নদী বিশেষজ্ঞ এবং ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। জলাধারের পাড়ের স্থিতিশীলতা, নদীর প্রবাহ এবং ধসের সম্ভাব্য নতুন জায়গাগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, কোনও ভাবেই যাতে আকস্মিক জলপ্রবাহ তৈরি না হয়।

কারণ রংভং নদী পরে সমতলে নেমে বালাসন নদীতে মিশেছে। ফলে কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু মিরিকের নীচের এলাকা নয়, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রশাসনের আশঙ্কা, তেমন পরিস্থিতিতে নকশালবাড়ি থেকে কার্শিয়াং বনাঞ্চলের বিভিন্ন অংশও প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিকৃষ্ণ পানিক্কর জানিয়েছেন, হ্রদ লাগোয়া এলাকা থেকে ৩৩টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের দল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার কথায়, কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে বড় বিপর্যয় হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকি নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে নদী সংলগ্ন বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে পাহাড়ের দিকে ফের নতুন ধস নামে কি না এবং কৃত্রিম জলাধারের জলস্তর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—সেদিকেই নজর প্রশাসনের। সিকিমের পর মিরিকেও ভূমিধস ও সম্ভাব্য হড়পা বানের আশঙ্কা ফের পাহাড়ি এলাকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks