...
...
Next Story

Obstructive Sleep Apnea: নাক ডাকার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণঘাতী রোগ! কলকাতায় ২৬-র মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের অপারেশন

Obstructive Sleep Apnea: নাক ডাকার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণঘাতী স্লিপ অ্যাপনিয়া! কলকাতায় ২৬ বছরের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের জটিল অস্ত্রোপচার হল। আপাতত রোগী সুস্থ আছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।

Published on: Sep 30, 2026, 10:21:12 IST
Advertisement

Obstructive Sleep Apnea: ঘুমের মধ্যে বিকট শব্দে নাক ডাকা, মাঝরাতে বারবার হঠাৎ দমবন্ধ হয়ে চমকে ওঠা, আর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও চরম ক্লান্তি- এগুলিকে অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি বা শারীরিক দুর্বলতা বলে ভুল করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি হতে পারে 'অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া'-র (Obstructive Sleep Apnea বা OSA) মতো এক বিপজ্জনক ব্যাধির লক্ষণ। সেরকমই জটিল শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন ২৬ বছরের এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। অস্ত্রোপচারের পরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

নাক ডাকার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণঘাতী রোগ! কলকাতায় ২৬-র মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের অপারেশন। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)
নাক ডাকার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণঘাতী রোগ! কলকাতায় ২৬-র মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের অপারেশন। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)

কলকাতার মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ওই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তাঁর পলিসমনোগ্রাফি (Polysomnography) বা বিস্তারিত স্লিপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান চিকিৎসকরা। দেখা যায়, তাঁর অ্যাপনিয়া-হাইপোপনিয়া ইনডেক্স (AHI) প্রতি ঘণ্টায় ৪০-এর বেশি! চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, AHI ৩০-এর বেশি হওয়া মানে রোগী গুরুতর বা 'সিভিয়ার' স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। শুধু তাই নয়, ঘুমের সময় তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (Oxygen Saturation) উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছিল, যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারত।

সিপ্যাপের বিকল্প: অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাধারণত এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে সিপ্যাপ (CPAP) মেশিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা মুখে মাস্ক পরে রাতে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। প্রতি মুহূর্তে জাহাজে যাতায়াত ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার কারণে দীর্ঘমেয়াদে বা সারাজীবনের জন্য সিপ্যাপ যন্ত্রের ওপর নির্ভর করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাছাড়া, উচ্চতা ও বয়সের তুলনায় তিনি মোটেও স্থূল বা ওবেস ছিলেন না।

১) সেপ্টোপ্লাস্টি (Septoplasty): প্রথমে নাকের মধ্যবর্তী বাঁকা বিভাজক হাড় সোজা করা হয়, যাতে নাক দিয়ে বায়ুপ্রবাহ বা এয়ারওয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সুগম হয়।

২) বার্বড পালাটোফ্যারিঙ্গোপ্লাস্টি (Barbed Palatopharyngoplasty - Barbed UPPP): এরপর গলার পিছনের অংশ ও নরম তালু পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। আধুনিক এন্ডোস্কোপ ও মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে এবং কোব্লেশন (Coblation) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। কোব্লেশন প্রযুক্তিতে প্লাজমা শক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি না করে ন্যূনতম রক্তক্ষরণে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গলার শিথিল টিস্যুগুলিকে শক্ত করতে এবং শ্বাসনালীর পথ প্রশস্ত রাখতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের 'বার্বড থ্রেড' বা খাঁজকাটা সেলাই। যেহেতু DISE পরীক্ষার মাধ্যমে বাধার নির্দিষ্ট জায়গাগুলি আগে থেকেই চিহ্নিত ছিল, তাই চিকিৎসকরা অত্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা চালাতে সক্ষম হন। ফলে প্রথাগত অস্ত্রোপচারের মতো গলার তালু বা ইউভুলা (গলার পিছনে ঝুলন্ত ছোট মাংসপিণ্ড) অতিরিক্ত কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

আর সেই চিকিৎসার বিষয়ে দীপঙ্করবাবু বলেন, ‘রোগী বর্তমানে ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থতার পর তিনি তাঁর পেশাগত দায়িত্বে ফিরতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী।’ আর রোগী বলেছেন, ‘একটানা নাক ডাকা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা আমার দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছিল এবং কাজের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করছিল। আমার পেশায় পর্যাপ্ত ঘুম এবং সজাগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks