...
...
Next Story

MLA Humayun Kabir: শাসনে বিজেপির বিক্ষোভ ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে, ‘গো-ব্যাক’ স্লোগানে উত্তেজনা

রবিবার খড়িবাড়ি এলাকায় তৃণমূলের একটি দলীয় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সভা শুরু হওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।

Published on: Sep 6, 2026, 21:01:16 IST
Advertisement

বারাসত ২ নম্বর ব্লকের শাসন থানার খড়িবাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল। একটি দলীয় সভায় যোগ দিতে এলাকায় পৌঁছনোর পরই স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁকে ঘিরে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শাসন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে হুমায়ুন কবীরকে নিরাপদে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ছবি ফেসবুক humayun kabir
ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ছবি ফেসবুক humayun kabir

জানা গিয়েছে, রবিবার খড়িবাড়ি এলাকায় তৃণমূলের একটি দলীয় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সভা শুরু হওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে এলাকায় সভা করতে না দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি, বিক্ষোভের পাশাপাশি একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এই বিক্ষোভের নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনাকেই দায়ী করেছে বিজেপির একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই শাসন এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তির পরিবেশ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের নতুন করে সভা করার মাধ্যমে এলাকায় ফের উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি।

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি পুরোপুরি অন্যভাবে তৈরি হয়েছে। বারাসত জেলার পুলিশ সুপার জে. মার্সি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভাস্থলে পৌঁছতে হুমায়ুন কবীরের দেরি হয়েছিল। সেই দেরিকে কেন্দ্র করেই কিছু মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পুলিশ দ্রুত হুমায়ুন কবীরকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। তাঁকে নিরাপদে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে ভাঙচুরের অভিযোগ-সহ গোটা ঘটনার পিছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের পরিচয়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সভাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে শাসন এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ। একদিকে তৃণমূলের সভা, অন্যদিকে তাকে ঘিরে বিজেপির বিক্ষোভ—দুই পক্ষের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে নতুন করে সরগরম এলাকা। প্রশাসনের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ, পরিস্থিতি যাতে ফের বড় ধরনের সংঘাতে না গড়ায় তা নিশ্চিত করা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত খড়িবাড়ি এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে শাসনের এই ঘটনা আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe