তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সামনে এল আরও একটি গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি স্কুল তৈরির জন্য নির্ধারিত সরকারি জমি দখল করে সেখানে টেনিস সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগের তির সরাসরি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকেই।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সেই জমির উপর নজর পড়ে তৎকালীন প্রভাবশালী কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর। অভিযোগ, তাঁর নির্দেশেই অনুগামীরা জমিটি দখল করে নেয়। পরে সেখানে একটি টেনিস কোর্ট বা টেনিস সেন্টার তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ সামনে আনতে শুরু করেছেন।
বাসিন্দাদের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশ এই বিষয়টি নিয়ে রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, স্কুলের জন্য নির্ধারিত জমি দখল হওয়ায় এলাকার পড়ুয়ারা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এর আগে তোলাবাজি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। তদন্তকারীদের দাবি, পুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট পরিচালনা, তোলাবাজি, জমি সংক্রান্ত বেআইনি কারবার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তাঁর নাম উঠে আসে।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট পরিচালনা, তোলাবাজি, জমি সংক্রান্ত বেআইনি কারবার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তাঁর নাম উঠে আসে।
{{/usCountry}}আইনি সুরক্ষা পাওয়ার জন্য দেবরাজ চক্রবর্তী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও দ্বিতীয়বার তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর গত বুধবার রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট আটটি মামলার তদন্ত চলছে। এই মামলাগুলির তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। আট সদস্যের এই দল দুর্নীতি, আর্থিক লেনদেন, জমি দখল এবং অন্যান্য অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।
তবে স্কুলের জমি দখল করে টেনিস সেন্টার তৈরির অভিযোগের বিষয়ে এখনও দেবরাজ চক্রবর্তী বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, নথি, জমির রেকর্ড এবং স্থানীয়দের বয়ান সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।