Explosion at Congress cader residence: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের মাত্র তিনদিন আগে বারুদের গন্ধে ছেয়ে গেল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা। সোমবার সকালে ফরাক্কা থানার অন্তর্গত নয়নসুখ-মানিকনগর এলাকায় কংগ্রেস কর্মী সাইমুল শেখের বাড়ির ছাদে বোমা বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ল পাঁচিলের বড় অংশ। যদিও ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা পাড়া। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে এলেন বাসিন্দারা। এদিকে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়নসুখ ১৩৬ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা তথা কংগ্রেস কর্মী সাইমুল শেখের বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফরাক্কার সিপিএম প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের নিজের কাকার ছেলে সাইমুল শেখ। আর এই সাইমুল শেখের পাশেই বাড়ি সিপিএম প্রার্থীর। হঠাৎ এই বিস্ফোরণে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। জানা যাচ্ছে, ১৩৬ নম্বর বুথ এলাকার ওই বাড়িতে বিস্ফোরণের ঠিক আগে কয়েকজন রাজমিস্ত্রি গাঁথনির কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গেই কাজ করছিলেন সাইমুল শেখ। আর সেই সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়ির ছাদের এক কোণে আগে থেকেই একটি ব্যাগে মজুত রাখা ছিল দু'টি বোমা। আচমকাই ফেটে যায় সেগুলি। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই।
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছান ফরাক্কা থানার আইসি অমিত কুমার মুখোপাধ্যায়-সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। যান কেন্দ্রীয়বাহিনীর জওয়ানরাও। ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা এলাকা। ঠিক কী কারণে বাড়ির ছাদে বোমা মজুত করা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কী কারণে বাড়ির ছাদে বোমা মজুত রাখা ছিল এবং এর পিছনে বড় কোনও নাশকতার ছক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে ফরাক্কা থানার পুলিশ। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট রয়েছে। সেই নির্বাচনে সন্ত্রাস করতেই বোমা মজুত রাখা হয়েছিল। ভোটে হার নিশ্চিত বুঝেই সন্ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে ফরাক্কার তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলামের অভিযোগ, 'এই এলাকায় নির্বাচনের মাত্র দু'দিন বাকি। এখন জোরকদমে নির্বাচনী প্রচার চলছে। এরমধ্যেই কংগ্রেস বুঝে গেছে তারা নির্বাচনে হারতে চলেছে। তাই আগে থেকে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য বোমা মজুত করে রাখছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যে কংগ্রেস কর্মীর বাড়ির ছাদে এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে, তিনি এই বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের নিকট আত্মীয় হন। ভোটে হার নিশ্চিত বুঝে কংগ্রেস-সিপিএম যৌথভাবে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। মানুষের মন জয় করতে না পেরে বোমা মজুত করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।' তিনি পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত ও এলাকায় আরও বোমা মজুত আছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফরাক্কা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুল বাসির বলেন, 'যাঁর বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা হয়েছে, তিনি আমাদের দলের কর্মী। কিন্তু ওই ব্যক্তি আমাদের জানিয়েছেন ভোটের আগে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য গোপনে তাঁর বাড়িতে বোমা রাখা হয়েছিল। প্রশাসনকে আমরা অনুরোধ করেছি নিরপেক্ষভাবে গোটা ঘটনার তদন্ত করার জন্য।'
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, 'যে কংগ্রেস কর্মীর বাড়ির ছাদে এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে, তিনি এই বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের নিকট আত্মীয় হন। ভোটে হার নিশ্চিত বুঝে কংগ্রেস-সিপিএম যৌথভাবে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। মানুষের মন জয় করতে না পেরে বোমা মজুত করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।' তিনি পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত ও এলাকায় আরও বোমা মজুত আছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফরাক্কা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুল বাসির বলেন, 'যাঁর বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা হয়েছে, তিনি আমাদের দলের কর্মী। কিন্তু ওই ব্যক্তি আমাদের জানিয়েছেন ভোটের আগে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য গোপনে তাঁর বাড়িতে বোমা রাখা হয়েছিল। প্রশাসনকে আমরা অনুরোধ করেছি নিরপেক্ষভাবে গোটা ঘটনার তদন্ত করার জন্য।'
{{/usCountry}}