Dilip Ghosh on Left Intellectuals: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে নির্যাতিতার পরিবার পুলিশের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই আবহেই কড়া ভাষায় সমালোচকদের আক্রমণ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, সমাজে অপরাধ বাড়ার পিছনে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও বামপন্থী রাজনীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অপরাধের সময় যেমন এঁরা নানা যুক্তি দেখান, তেমনই অপরাধীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তার বিরোধিতা করেন। মন্ত্রী বলেন, 'এরা সমাজবিরোধীদের পক্ষেই দাঁড়ায়। সমাজে যখন বড় অপরাধ ঘটে, তখন আন্দোলন করে। আবার অপরাধী শাস্তি পেলেও আন্দোলন শুরু করে। এরা শুধু নিজেদের প্রচার চায়, সমাজের নিরাপত্তার কথা ভাবে না।'
বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাংলায় ডিম ছোড়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন তিনি। এনকাউন্টার নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তাঁদের বক্তব্য, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটেই আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'ডিম যদি ছুড়তেই হয়, তাহলে এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙুন। যারা অপরাধী আর অপরাধের সমর্থকদের পাশে দাঁড়ায়, তাদেরও একইভাবে জবাব দেওয়া উচিত।'
{{/usCountry}}এই প্রেক্ষাপটেই আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'ডিম যদি ছুড়তেই হয়, তাহলে এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙুন। যারা অপরাধী আর অপরাধের সমর্থকদের পাশে দাঁড়ায়, তাদেরও একইভাবে জবাব দেওয়া উচিত।'
{{/usCountry}}দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ডিম ছোড়ার রাজনীতিকে তাঁর দল সমর্থন করে না। তিনি কর্মীদের এমন কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছিলেন। সেই অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য দলের অন্দরে ভিন্ন সুরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়, যাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছে। একদিকে অনেকেই পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী দল, মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীদের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।