টলিউডের প্রযোজক ও সংগঠক স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকালে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং সেই কারণেই এতদিন অনেকেই মুখ খুলতে পারেননি। বৃহস্পতিবার রাতে শ্লীলতাহানি ও অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগকারিণীর দাবি, গত দু’বছর ধরে তিনি কোনও কাজ পাচ্ছিলেন না। কাজের জন্য যোগাযোগ করলে তাঁর কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি টাকা না দিলে ভবিষ্যতেও কাজ পাওয়া যাবে না বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ফের কাজের সন্ধানে যোগাযোগ করলে তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে ওই মহিলার বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে পৌঁছেছিলেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁদের সঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তদন্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর টলিউডের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিল্পী, কলাকুশলী এবং চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের কথাও অনেকে প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষ এখন জানতে পারছে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কীভাবে বিভিন্ন ধরনের অন্যায় হয়েছে। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর অনেকেই ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেননি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং অভিযোগ সামনে আসছে। তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তবে অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর রয়েছে।