পঞ্চায়েত স্তরে কাজের গতি বাড়ানো, সরকারি পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় এবং দুর্নীতি রোধে আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই বিধানসভায় আনা হচ্ছে 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল'। এই বিলে গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিল অনুযায়ী, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধান যদি টানা ১৫ দিনের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন প্রশাসক নিয়োগ করা যাবে। যদি ওই সময়ে কোনও নির্বাচিত সদস্য দায়িত্ব নিতে রাজি না হন এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ একজন এক্সটেনশন অফিসার বা তাঁর চেয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন।
সরকারের মতে, এর ফলে পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজ বন্ধ থাকবে না এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়তে হবে না। বিলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদি প্রধান ও উপপ্রধানের অনুপস্থিতিতে টানা দু'মাস গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈঠক না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিডিওর অনুমতি নিয়ে পঞ্চায়েতের সচিব নিজেই বৈঠক ডাকতে পারবেন। সেই বৈঠকে এক্সটেনশন অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েতের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতদিন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বাক্ষরেই বিভিন্ন আর্থিক কাজ সম্পন্ন হতো। নতুন বিলে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে টাকা খরচের ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া চেকে সচিব এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌথভাবে স্বাক্ষর করতে হবে।
{{/usCountry}}শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েতের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতদিন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বাক্ষরেই বিভিন্ন আর্থিক কাজ সম্পন্ন হতো। নতুন বিলে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে টাকা খরচের ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া চেকে সচিব এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌথভাবে স্বাক্ষর করতে হবে।
{{/usCountry}}প্রতি মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রধান এবং বিডিওর কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্বও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের উপর দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।
এদিকে, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও মাঠে নেমে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী সপ্তাহ থেকেই তিনি বিভিন্ন জেলায় সফর শুরু করবেন। প্রথম পর্যায়ে হাওড়া ও হুগলি জেলায় গিয়ে বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আবাস যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করবেন তিনি।
সম্প্রতি পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কাজকর্ম নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও করেন মন্ত্রী। সেই বৈঠকে রাজ্যের ৩,৩৩৯ জন পঞ্চায়েত প্রধানের মধ্যে ২,৬১০ জন অংশ নেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন একই পদে থাকা একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককেও বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই সংশোধনী বিল কার্যকর হলে পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত হবে, আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা তৈরি হবে না। বিরোধীদের নজর এখন এই বিল নিয়ে বিধানসভায় কী ধরনের আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই।