বাংলার দুর্গাপুজো শুধু দেবী দুর্গার আরাধনা নয়, বাঙালির কাছে এটি আবেগ, সংস্কৃতি, শিল্প, খাবার এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। বছরের কয়েকটি দিনের এই উৎসব ঘিরে কলকাতা ও বাংলায় যে উন্মাদনা তৈরি হয়, তার আকর্ষণ এখন আর রাজ্য বা দেশের সীমানায় আটকে নেই। বিদেশের মাটিতেও বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আন্তর্জাতিক কৌতূহলকেই কাজে লাগিয়ে বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বড়সড় প্রচার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

এই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ‘বিশ্বজুড়ে বাঙালির আবেগ – দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’ নামে বিশেষ প্রচার কর্মসূচি। রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বিভিন্ন দেশে বাংলার দুর্গাপুজোর নানা দিক তুলে ধরা হবে। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসের মতো আন্তর্জাতিক জায়গা থেকে শুরু করে সিডনি ও জাপানের বিমানবন্দরেও বাংলার পুজোর ছবি, ভিডিও এবং প্রচারসামগ্রী তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু প্রতিমা বা পুজোমণ্ডপ নয়, বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিল্প, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনকেও এই প্রচারের অংশ করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কারিগরি, শিল্পীদের দক্ষতা, পুজোর থিম, আলোকসজ্জা, ঢাক, বাংলার মিষ্টি ও নানা ধরনের খাবার, পুজোর ফ্যাশন—সবকিছুই তুলে ধরা হবে বিশ্বের সামনে। একইসঙ্গে বাংলার মানুষের আবেগ এবং পুজোকে ঘিরে প্রবাসী বাঙালিদের অনুভূতিও প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
এই আন্তর্জাতিক প্রচারে সামাজিক মাধ্যমকে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় রাজ্য পর্যটন দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত ১০টি দেশের ২৫টি বাঙালি সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রতিটি দেশের ভাষা ও দর্শকের কথা মাথায় রেখে আলাদা বিজ্ঞাপন, ভিডিও এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে স্থানীয় দর্শকদের কাছে বাংলার দুর্গাপুজোর গল্প আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
{{/usCountry}}এই আন্তর্জাতিক প্রচারে সামাজিক মাধ্যমকে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় রাজ্য পর্যটন দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত ১০টি দেশের ২৫টি বাঙালি সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রতিটি দেশের ভাষা ও দর্শকের কথা মাথায় রেখে আলাদা বিজ্ঞাপন, ভিডিও এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে স্থানীয় দর্শকদের কাছে বাংলার দুর্গাপুজোর গল্প আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
{{/usCountry}}প্রচার পরিকল্পনার অন্যতম বড় চমক ২,৬০০ জন ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিয়োগের ভাবনা। তবে তাঁদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট যোগ্যতা। প্রত্যেকের ন্যূনতম ১০ লক্ষ ফলোয়ার বা সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। ভিউ, রিচ এবং ডিজিটাল প্রভাবের উপর ভিত্তি করেই তাঁদের নির্বাচন করা হবে। প্রবাসী বাঙালি ইনফ্লুয়েন্সারদের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও রয়েছে।
এই ২,৬০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ভ্রমণ, পর্যটন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা ইনফ্লুয়েন্সার থাকবেন। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকবেন খাবার, শিল্প, ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। ফলে দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব হিসেবে নয়, একটি সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পর্যটন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই লক্ষ্য।
ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যম মিলিয়ে এই প্রচার থেকে ২০০ কোটি ভিউ এবং ইমপ্রেশনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পুরো প্রচারপর্ব পরিচালনার জন্য পেশাদার সংস্থা নিয়োগের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পর্যটন দপ্তরের তরফে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলার দুর্গাপুজোকে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এবার সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের বড় ব্র্যান্ডে পরিণত করার পথে আরও এক ধাপ এগোতে চাইছে রাজ্য। বিশ্বের নানা প্রান্তে বসে মানুষ যাতে বাংলার পুজোর রং, আলো, শিল্প, খাবার এবং আবেগের স্বাদ পান—‘দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’-এর পরিকল্পনায় আপাতত সেই লক্ষ্যই স্পষ্ট।