চোরবাগানের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দুর্গাপুজোর বাকি দিনগুলিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর পুজো উদ্যোক্তারা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে জরুরি চিকিৎসা, স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব থেকে মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা বন্ধ করা— একাধিক বিষয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিল ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। রবিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত বৈঠকে শহরের শতাধিক পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৭২ ঘণ্টা যাতে নির্বিঘ্নে পুজো দর্শন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। সমস্ত পুজো কমিটিকে নির্দেশগুলি কঠোর ভাবে মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে ফোরাম।
মণ্ডপে সেলফি নয়, নজর ভিড় নিয়ন্ত্রণে

ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি পুজো মণ্ডপের প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবক অথবা ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যকে উপস্থিত থাকতে হবে। শুধু মণ্ডপের ভিতরে নয়, রাস্তাতেও ভিড় সামলানোর কাজে আরও সক্রিয় হতে হবে স্বেচ্ছাসেবকদের। কোনও জায়গায় অতিরিক্ত ভিড় জমলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা বা ভিডিয়ো করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত ঘোষণা করতে হবে। দর্শনার্থীদেরও এই নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে ফোরাম। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি বা ভিডিয়ো তুলতে গিয়ে যাতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া, ক্লাবের পরিচয়পত্র বা ব্যাচ পরে অন্য পাড়ায় ঠাকুর দেখতে চলে যাওয়ার বদলে সদস্যদের নিজের এলাকার পুজোয় উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার কাজে যাতে লোকের অভাব না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিটি ক্লাবে ১০টি রেইনকোট
বৃষ্টির সময়েও যাতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ১০টি করে রেইনকোট রাখতে বলা হয়েছে। রেইনকোট কেনার খরচ বহন করবে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ক্লাবকে ওয়াকিটকি রাখার কথাও জানানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অ্যাম্বুল্যান্স থাকবে প্রতিটি জোনে
{{/usCountry}}বৃষ্টির সময়েও যাতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ১০টি করে রেইনকোট রাখতে বলা হয়েছে। রেইনকোট কেনার খরচ বহন করবে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ক্লাবকে ওয়াকিটকি রাখার কথাও জানানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অ্যাম্বুল্যান্স থাকবে প্রতিটি জোনে
{{/usCountry}}জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফোরামের তরফে প্রতিটি জোনে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জোনের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। কোনও দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
রাস্তার নিরাপত্তা নিয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও পুজো কমিটি রাস্তার উপর গর্ত করতে পারবে না। কোথাও গর্ত থাকলে দ্রুত তা বুজিয়ে নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, পুজো পরিচালনা, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে প্রতিটি ক্লাবকে। কোনও কমিটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে ফোরাম।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর ভিড় সামলানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রশাসন নয়, পুজো কমিটি এবং সাধারণ দর্শনার্থীদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা এই নির্দেশগুলি কতটা কার্যকর ভাবে পালন করা হয়, এখন সে দিকেই নজর থাকবে। দুর্গাপুজোর আনন্দ যাতে আর কোনও দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়, সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য।